ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ৩:১২:৩৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

‘নারী নেতৃত্বের পথে বড় বাধা দলগুলোর ভেতরের অনৈক্য’

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:০৮ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেই নারীর প্রতি নারীর অসহযোগিতা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা নিজেদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশের অন্যতম  অন্তরায়। দলীয় রাজনীতিতে অনেক নারীই চান না অন্য কোনো নারী সামনে এগিয়ে যাক। এই বাস্তবতায় রাজনীতির মূলধারায় নারীদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে দলমত নির্বিশেষে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল ‘কেমন ইশতেহার চাই : প্রসঙ্গ নারী’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে উইমেন ইন ডেমোক্রেসি (উইন্ড) এ আয়োজন করে।   

উইমেন ইন ডেমোক্রেসির আহ্বায়ক কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ্‌।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। বক্তব্য দেন বিএনপির সহসম্পাদক নিলুফার চৌধুরী মনি, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, শ্রমিক নেত্রী মোশরেফা মিশু, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সামান্থা শারমিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সেলিমা রহমান বলেন, নির্বাচন প্রয়োজন, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণ দৃশ্যমানভাবে বাড়াতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে নারীরাই অনেক সময় নারীবান্ধব আচরণ করেন না। এক নারী আরেক নারীকে সমর্থন না দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ড. মাহবুব উল্লাহ্‌ বলেন, নারীদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। সন্তান ধারণ ও লালনের মাধ্যমে মানবসম্পদ তৈরিতে নারীদের যে ভূমিকা, তার মূল্যায়ন নেই। তিনি বলেন, নারী ও পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যগুলো চিহ্নিত করে দূর করতে হবে এবং সামাজিকভাবে শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। 

নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, নারীরা তৃণমূলে রাজনীতি করলেও মনোনয়নের ক্ষেত্রে বঞ্চিত হন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মাত্র ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৩০টি রাজনৈতিক দল কোনো নারী প্রার্থীই দেয়নি। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বিজয়ের হার এখনও সীমিত। 

আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, নারীরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, সবখানেই পুরুষের সঙ্গে সমানভাবে অংশ নিচ্ছে; অথচ রাজনীতিতে এসে প্রশ্ন তোলা হয়। এই মানসিকতা বদলাতে হবে।

সামান্থা শারমিন বলেন, জোট রাজনীতির কারণে তাদের দল থেকে ছয়জন নারী প্রার্থী সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের মতামত উপেক্ষিত থাকে এবং সাম্প্রতিক জোট ও আসন বণ্টন বৈঠকেও নারীদের উপস্থিতি ছিল না।

হেলাল উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক নয়। পাবলিক পরিসরে নারীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর নারী প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দলীয় প্রক্রিয়াগত কারণে এবার সম্ভব হয়নি।

শ্রমিক নেত্রী মোশরেফা মিশু বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার– সব ক্ষেত্রেই গণতন্ত্রের ঘাটতি রয়েছে।