জাতি গঠনে নারীর ক্ষমতায়ন শুরু হতে হবে ঘর থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:১২ এএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার
ছবি: সংগৃহীত
সমাজের প্রতিটি স্তরে নিজের জায়গা থেকে সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের যদি প্রকৃত উন্নয়ন করতে হয়, তবে অর্ধেক জনসংখ্যাকে ঘরে বসিয়ে রাখলে চলবে না। ক্ষমতায়ন শুরু হতে হবে আমাদের ঘর, প্রতিষ্ঠান এবং সামগ্রিক মানসিকতায়।
গতকাল রোববার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জাইমা রহমান। ঢাকা ফোরাম ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি নারীর ভূমিকা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
তারেক রহমানের কন্যা বলেন, আজ আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে। গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য হলো ভিন্ন ভিন্ন মত ও পথের মানুষ মিলে দেশের মঙ্গলের জন্য একসঙ্গে কাজ করা। তাঁর বেড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতা ও মর্যাদা সম্পর্কে আমার প্রথম ধারণা এসেছে পরিবার থেকে। আমার মা একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্যারিয়ার ও পরিবার সামলেছেন, কারণ তিনি বাড়িতে সমর্থন পেয়েছিলেন।
জাইমা রহমান তাঁর দাদা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনিই প্রথম নারী ও কন্যাশিশুদের উন্নয়নের জন্য মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। এ ছাড়া পোশাক খাতের মাধ্যমে লাখ লাখ নারীকে তিনি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছিলেন।
তাঁর দাদি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শিক্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, খালেদা জিয়ার শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য ও মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা কর্মসূচি বিদেশেও মডেল হিসেবে স্বীকৃত।
তিনি বলেন, কেবল আইন বা নীতি দিয়ে সমতা আসবে না, যদি না আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটে। দেশে নারীরা ৮৫ শতাংশ গৃহস্থালি কাজ বিনা পারিশ্রমিকে করেন, যার আর্থিক মূল্য জিডিপির ১৯ শতাংশ। অথচ শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ এখনও ৪০ শতাংশের নিচে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিয়ের পর বা সন্তানের জন্মের পর নারীরা স্বপ্ন ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শুধু রাজনীতিতে নয়, দেশের অর্থনীতিতেও নারীদের অংশগ্রহণ চিন্তা করতে হবে, যাতে দেশের অর্থনীতিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মসংস্থানে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে দক্ষতা বাড়াতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকায় নারীদের আর্থিক সহায়তা বাড়াতে হবে। নারীদের কাজকে মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ও ডিজাইন সাপোর্ট দিলে তাদের জীবনযাপনের চিত্র পাল্টে যাবে।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে ‘অ্যাকসেস টু ফাইন্যান্স’। নারী উদ্যোক্তা, বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তাদের এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা তামারা আবেদ বলেন, নারীদের শুধু জনসংখ্যা হিসেবে না দেখে মানবসম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। নারীদের মধ্যে যে লুকায়িত সম্ভাবনা রয়েছে, তা সামনে নিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বার্জার পেইন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের নারী শিক্ষার্থীরা।
