‘ডিসি আমাকে কোন এখতিয়ারে শোকজ করে?’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৯:৫৮ এএম, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ডিসি আমাকে কেন শোকজ করে? ডিসি কেন আমাকে আদেশ দেয় সশরীরে উনার কাছে হাজির হতে। উনি কি তা পারেন? এই প্রশ্নটা আইন অনুযায়ী সাংবাদিকদের সামনে রাখছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাচনী তদন্ত কমিটির একটি আছে, তাদের কাছে প্রেরণ করতে পারবে। নির্দেশ দেবে কমিশন, নট ডিসি। ডিসির যেই চিঠি যেটা আমি পাই নাই, যেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই চিঠিটা তিনি কোন এখতিয়ারে দিলেন?
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে করা জরিমানা, ইউএনওর চিঠি ও ডিসির শোকজের বিষয়ে রুমিন ফারাহানা এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
রুমিন ফারাহানা বলেন, গত ১৭ জানুয়ারি আমাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগেও আমাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানা মানে আমার অপরাধের শাস্তি। তারপর সরাইল উপজেলার ইউএনও, তিনি বিচারিক কমিটির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এর মানে আমার এক অপরাধে দুটি শাস্তি হয়েছে। এখানেই থামলো না, ৩ নম্বর শাস্তি হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডিসি তিনি আবার আমাকে একটি শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছেন যেটি এখনো আমি পাইনি, সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে দেখেছি। এক অপরাধের জন্য আমাকে তিনটা শাস্তি দেওয়া হলো।
প্রশাসনের পক্ষপাতের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলাম। সেখানে বিএনপির জোটের প্রার্থী তিনি কীভাবে জনসভা করে বেড়াচ্ছেন। জোনায়েদ আল হাবিবের ফেসবুক প্রোফাইলে গেলেই তার সভার নমুনাগুলো দেখা যাবে। আর আমি একটা হ্যান্ডমাইক নিয়ে চলি। শুধু তাই নয়, বিএনপির জোট প্রার্থী শাহবাজপুরে গরু জবাই করে মানুষ খাইয়েছেন। এ সমস্ত দলিল যখন আমি ডিসি সাহেবকে দেখালাম, উনাকে বিনীতভাবে প্রশ্ন করলাম যে আমি তো এখনো অব্দি ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছি, বিএনপি জোটের প্রার্থী কত টাকা জরিমানা দিয়েছে? আমি দেড় ঘণ্টা উনার সামনে বসে থেকেও অঙ্কটা জানতে পারলাম না। তার মানে এ সমস্ত ডকুমেন্ট (জোটের প্রার্থীর প্রচারণার প্রমাণ) ভিডি ও ফটো যেখানে রয়েছে, সেখানে ১ টাকাও তাকে জরিমানা করা হয়নি। এটা আমি ধরে নেব তাহলে এই প্রশাসনের অধীনে আমি কেমন করে নির্বাচন করি। যারা অলরেডি পক্ষপাত করছে। আপনারা আমাকে বলেন নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডটা কোথায় আছে। এই ডিসি, এই ইউএনওর অধীনে আমি কি বিচার পাব। এই প্রশ্ন সাংবাদিক ভাইদের কাছে রাখছি।
নির্বাচনে আচরণবিধির রেফারেন্স টেনে রুমিন ফারাহানা বলেন, রুমিন ফারহানা ও মমতাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই। আমাকে বলা হয়েছে, রুমিন ফারহানা হচ্ছে টিস্যু পেপার যাকে ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। টিস্যু পেপার যেমন কাজে লাগে না, রুমিন ফারহানার এখন কোনো কাজ নাই। এই ধরনের উস্কানিমূলক, আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছে। আমি গত ১৩ তারিখ ডিসি সাহেবকে জানিয়েছে। কিন্তু এখনো অব্দি ডিসি সাহেব কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না আমার জানা নাই।
হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচনের যে সার্বিক পরিস্থিতি আমি দেখছি, প্রশাসন যদি ২০১৮ সালের মতো কাজ করে এই নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আমি নির্বাচন কমিশনকে বলব ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এর ব্যাপারে, আমি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, একজন আইনজীবী এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ করব ডিসি সাহেব কোন এখতিয়ারে আমাকে উপস্থিত হতে বললেন এবং না হলে তিনি যে ব্যবস্থা নেবেন এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেবেন। কারণ ডিসি, এসপি, ইউএনওসহ প্রশাসন এখন পর্যন্ত পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে, সেহেতু নির্বাচন কমিশনের কাছে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রশ্ন রাখলাম।
