বিয়ের ক্ষেত্রে যে ‘বাধ্যবাধকতা’ বিলুপ্ত করছে ফ্রান্স
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৫০ এএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) একটি ঐতিহাসিক বিল অনুমোদিত হয়েছে, যা দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘বৈবাহিক অধিকার’ বা ‘যৌনমিলনের বাধ্যবাধকতা’ বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে।
নতুন এই আইনের মাধ্যমে দেশটির দেওয়ানি বিধিতে (সিভিল কোড) একটি নতুন ধারা যুক্ত হবে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—একত্রে বসবাস করা মানে স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি।
আইনের ফলে এখন থেকে কোনো পক্ষই যৌন সম্পর্কের অনুপস্থিতিকে ‘ডিভোর্স’ বা বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে বিপক্ষের ‘দোষ’ হিসেবে আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবে না। যদিও আগে সরাসরি ‘যৌন বাধ্যবাধকতা’ শব্দটি আইনে উল্লেখ ছিল না, মধ্যযুগীয় গির্জার প্রভাব থেকে উদ্ভূত ‘যৌন অধিকার’ বা ‘কনজুগাল ডিউটি’-এর ধারণা ফরাসি সমাজে দীর্ঘকাল টিকে ছিল। আধুনিক সময়ে অনেক বিচারক একত্রে বসবাসকে যৌন সম্পর্কের সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করতেন।
২০১৯ সালে ঘটে যাওয়া একটি আলোচিত মামলায় এক নারী তার স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে অস্বীকৃতি জানানোয় আদালত তাকে বিবাহবিচ্ছেদে ‘দোষী’ সাব্যস্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত এই রায়ের জন্য ফ্রান্সের সমালোচনা করলে আইনি পরিবর্তনের পথ সুগম হয়।
বিলটির প্রস্তাবক, গ্রিন পার্টির এমপি মারি-শার্লট গারিন এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বিয়ের পর সম্মতি চিরস্থায়ী নয় এবং সারাজীবনের জন্য হয়ে যায় না। বিয়ের দোহাই দিয়ে যৌন সম্পর্কের ওপর একতরফা অধিকার চর্চা মূলত আধিপত্য ও শোষণের পথ প্রশস্ত করে।
২০২৪ সালে ফ্রান্সে আলোচিত ‘জিজেল পেলিকট’ গণধর্ষণ মামলার পর বিষয়টি জনসাধারণের আলোচনায় এসেছে। এই মামলায় বিয়ের ভেতর সম্মতির প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পায়।
ফ্রান্সে ১৯৯০ সাল থেকেই বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলেও আইনি অস্পষ্টতা রয়ে গিয়েছিল। গত বছরের নভেম্বর থেকে ধর্ষণের সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে যৌন সম্পর্কের আগে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট এবং প্রত্যাহারযোগ্য সম্মতি থাকতে হবে। মৌন থাকা বা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখানো মানেই সম্মতি নয়।
নতুন আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে ফ্রান্স সরকার মূলত বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মতির বিষয় নিশ্চিত করতে এবং নারীর শারীরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি
