কমেছে স্বর্ণের দাম, কেন বার বার দাম ওঠা-নাম করছে?
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:০৭ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
ফাইল ছবি।
টানা কয়েক দফায় বাড়ার পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন বার বার সোনার দাম এভাবে বাড়ছে বা কমছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নানা মহলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলাতে গয়ে দেশি বাজারে দাম কমছে বা বাড়ছে।
এদিকে এবার ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৬৩ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
আজ শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট হলমার্ককৃত সোনার প্রতি গ্রামের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ২৬৫ টাকা। সেই হিসেবে দেশীয় পরিমাপ অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৯ টাকা।
আর ২১ ক্যারেট হলমার্ককৃত সোনার প্রতি গ্রামের দাম ২২ হাজার ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ভরিপ্রতি হিসেব করলে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৯ টাকা। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেট সোনার বর্তমান গ্রামপ্রতি মূল্য ১৯ হাজার ৩৫ টাকা অনুযায়ী প্রতি ভরির দাম পড়বে ২ লাখ ২২ হাজার ২৫ টাকা।
এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি গ্রামের দাম ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৭৫ টাকা, যার ভরিপ্রতি বাজারমূল্য দাঁড়াবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩২ টাকা।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি যোগ হবে।
কেন স্বর্ণের দাম বার বার ওঠা-নাম করছে?
গ্লোবাল মার্কেটের চাপ:
বিশ্ব বাজারে সোনার দাম ওঠা-নামার সাথে সাথে বাংলাদেশও এর প্রভাব পরে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনায় বেশি আগ্রহী হওয়ায় আন্তর্জাতিক দাম অনেক সময় বাড়ছে — তারপরই বাংলাদেশে দাম ঠিক হয়।
চাহিদা ও বিনিয়োগদ্বার খুলে যাওয়া
ঘরোয়া বিনিয়োগকারীরা যখন শেয়ার বাজার, মুদ্রা বা অন্য সম্পদে নিরাপদ বোধ করেন না, তারা সোনায় টাকা রাখেন — এতে চাহিদা বাড়ে।
বাংলাদেশে লোকেরা পারিবারিক ও সামাজিক উৎসবে (বিয়ে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে) সোনা কিনে থাকেন — এটা একটি শক্তিশালী পারম্পরিক চাহিদাও তৈরি করে।
টাকার বিশ্বাস হারানো
আর্থিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি বা টাকার মান কমে গেলে মানুষ টাকা ব্যাংকে না রেখে সোনায় বিনিয়োগ করে — কারণ সোনা মূল্য অধিক স্থিতিশীল মনে হয়।
এই পরিবর্তিত মনোভাব স্বর্ণের বাজারে নতুন ঢেউ তৈরি করে।
সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য
বিশ্ব বাজারে স্বর্ণ খনির উৎপাদন বা সরবরাহ একটু কম থাকলে দাম বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়া, বাংলাদেশে স্বর্ণের বড় অংশই লক্ষ্যের বাইরে (অনুমোদিত আমদানি নয়) আসে বলে বাজার স্বাভাবিক মূল্যের থেকে আলাদা আচরণ করে — এক্সচেঞ্জ বোর্ড বা বাজুসের কীভাবে দাম ঠিক হয়, সে ব্যাপারে জটিলতা থাকে।
বারবার দাম ঠিক করার পদ্ধতি
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS) নিয়মিত বাজারের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করে — কিন্তু কখনও কখনও দাম ১৪ বার বাড়ানো হয়েছে মাত্র ৩ মাসে, আর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র কয়েকবারই — ফলে দাম ওঠা-নামার তুলনায় “ওঠা”ই বেশি চোখে পড়ে।
সাম্প্রতিক ইতিহাস
অল্প দিনের মধ্যে স্বর্ণের দাম সতত বাড়ছে, যেমন: এক পর্যায়ে দেশে ২২ ক্যারাট স্বর্ণের দাম টাকার দেড় লক্ষের ওপর এইচআইতে পৌঁছেছে। গত বছরও রেকর্ডতোড় দাম উঠেছিল অনেকবার।
