ঢাকা, শনিবার ৩১, জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৯:৫৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

চ্যাটজিপিটির উত্তরে দেখাচ্ছে ‘গ্রকিপিডিয়া’র তথ্য

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৩৫ এএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির কিছু উত্তরে ইলন মাস্ক–সংশ্লিষ্ট একটি নতুন তথ্যসূত্র ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। ওই উৎসটির নাম ‘গ্রকিপিডিয়া’। এটি ইলন মাস্কের এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআই তৈরি করা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–নির্ভর অনলাইন বিশ্বকোষ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি চ্যাটজিপিটির কিছু উত্তরে গ্রকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে জিপিটি–৫.২ মডেল ব্যবহার করে দেওয়া উত্তরের মধ্যে এই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবরে গ্রকিপিডিয়া চালু করে এক্সএআই। উইকিপিডিয়া রক্ষণশীল মতাদর্শের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট এমন অভিযোগ তুলে ইলন মাস্ক নতুন এই বিশ্বকোষ তৈরির উদ্যোগ নেন। তবে চালুর পরপরই গ্রকিপিডিয়া নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, গ্রকিপিডিয়ার অনেক নিবন্ধ সরাসরি উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া বা অনুলিপি করা। একই সঙ্গে সেখানে এমন কিছু দাবি ও ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে, যা তথ্যগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল। কিছু নিবন্ধে এইডস সংকটের জন্য পর্নোগ্রাফিকে দায়ী করা হয়েছে। কোথাও দাসপ্রথার পক্ষে তথাকথিত ‘আদর্শিক যুক্তি’ উপস্থাপন করা হয়েছে। 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব বিষয় নতুন নয়। কারণ গ্রক নামের চ্যাটবটটি এর আগেও বিতর্কিত আচরণের জন্য আলোচনায় আসে। একপর্যায়ে এটি নিজেকে ‘মেকা হিটলার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) যৌন বিকৃত ডিপফেক ছড়াতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল।

তবে সাম্প্রতিক যে বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, তা হলো-গ্রকিপিডিয়ার তথ্য এখন কেবল ইলন মাস্কের প্ল্যাটফর্মেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটি একাধিক প্রশ্নের উত্তরে গ্রকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিপিটি–৫.২ অন্তত ১২টির বেশি প্রশ্নের উত্তরে নয়বার এই উৎসের উল্লেখ পাওয়া গেছে।

তবে সব বিষয়ে নয়। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলা বা এইচআইভি–এইডস মহামারির মতো বহুল আলোচিত ও সংবেদনশীল বিষয়ে চ্যাটজিপিটি গ্রকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহার করেনি। বরং অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত বিষয়ে এর ব্যবহার দেখা গেছে। এর মধ্যে ইতিহাসবিদ স্যার রিচার্ড ইভান্সকে নিয়ে কিছু দাবি রয়েছে, যেগুলো আগেই দ্য গার্ডিয়ান ভুল বলে খণ্ডন করেছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অ্যানথ্রপিকের তৈরি আরেকটি এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’ও কিছু ক্ষেত্রে গ্রকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, চ্যাটজিপিটি বিভিন্ন ধরনের উন্মুক্ত তথ্যসূত্র ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীদের জন্য সর্বাধিক বিস্তৃত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করা।