হ্যাঁ‑না ভোট: গণতান্ত্রিক পরীক্ষা নাকি রাজনৈতিক কৌশল?
মহিউদ্দিন চৌধুরী
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:০৯ এএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার
প্রতীকী ছবি।
সম্প্রতি দেশের রাজনীতি নতুন মোড় নিয়েছে—নির্বাচনের আগে বা গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে হ্যাঁ‑না ভোট আয়োজন নিয়ে আলোচনা তীব্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণকে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া অবশ্যই স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক, তবে এই ধরনের ভোট প্রক্রিয়ার নকশা, উদ্দেশ্য এবং বাস্তবায়ন সবকিছু মিলিয়ে তা রাজনৈতিক ও আইনি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
প্রথমত, হ্যাঁ‑না ভোটের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের সরাসরি মত জানতে পারা। এটি একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক হাতিয়ার হতে পারে, যদি ভোটটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সংবিধান সম্মত হয়। মানুষের মতামত নেওয়ার মাধ্যমে সরকারের নীতি বা সংশোধনী প্রস্তাবের জনপ্রিয়তা যাচাই করা যায়, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক।
কিন্তু বাস্তবতায় হ্যাঁ‑না ভোট অনেক সময় রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নির্ধারিত প্রস্তাব, ভোট পরিচালনা পদ্ধতি, প্রচারণা এবং মিডিয়ার ভূমিকা—সবকিছু প্রভাবিত করলে ভোটটি জনগণের প্রকৃত মত প্রকাশের পরিবর্তে একটি রাজনৈতিক বার্তা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে, জনগণ ভোটে অংশ নিয়ে সত্যিকারের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারার শিকার হয়।
দ্বিতীয়ত, হ্যাঁ‑না ভোটের প্রেক্ষাপটেই সচেতনতা অপরিহার্য। ভোটারদের শিক্ষা, তথ্য সরবরাহ এবং বিতর্কে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যথায় ভোট কেবল সংখ্যার খেলা হয়ে যায়, যেখানে গণতান্ত্রিক চেতনা অবমূল্যায়ন হয়।
অতএব, হ্যাঁ‑না ভোটকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি একটি গণতান্ত্রিক পরীক্ষা—যেখানে সরকার এবং জনগণ উভয়কেই সতর্ক থাকতে হবে। জনগণের প্রকৃত মত, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং সংবিধান সম্মত নিয়ম মেনে ভোট আয়োজন করা হলে, এটি দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যথায়, এটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে অপব্যবহৃত হলে গণতন্ত্রের নৈতিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শেষে বলা যায়, হ্যাঁ‑না ভোট কেবল একটি ভোটের সংখ্যা নয়—এটি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জনগণের অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক চেতনার সত্যিকারের পরীক্ষা। সরকারকে সচেতন থাকতে হবে, ভোটারদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আর সমাজকে নিশ্চিত করতে হবে যে, গণতন্ত্র কেবল কাগজে নয়, বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে।
মহিউদ্দির চৌধুরী: লেখক ও কলামিস্ট।
