জামায়াত আমিরের মন্তব্যে পেশাজীবী নারীদের প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৯:২৭ পিএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার
প্রতীকী ছবি।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্যে কর্মজীবী নারীদের পতিতা বা দেহব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করার ঘটনায় দেশে পেশাজীবী নারী সমাজ উত্তাল। প্রতিক্রিয়া শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকেনি—চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাড়ু মিছিল এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ডা. সাম্প্রিয়া রহমান বলেন, “আমরা নারীরা শুধু চাকরি করি না, দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি—প্রায় সব ক্ষেত্রে অবদান রাখি। এমন মন্তব্য কেবল আমাদের কাজকে অবমূল্যায়ন করে না, বরং সমাজে নারীর অবস্থানকে হেনস্থা করছে। আমি চাই, তিনি জনগণের সামনে ক্ষমা চাবেন।”
চট্টগ্রামের একটি আইটি কোম্পানিতে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তানভীরা শামসী মন্তব্য করেন, “আমরা ঘরের বাইরে নিজেরাই জীবিকা অর্জন করি, দেশের উন্নয়নে কাজ করি। এই ধরনের তুলনা মানসিকভাবে আঘাতজনক। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত নারীর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।”
রাজধানীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফাহমিদা নাজ বলেন, “আমরা দেখছি, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় বা অফিসে নয়, পুরো সমাজে নারীরা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে। এই মন্তব্য রাজনৈতিক অজ্ঞতার চরম উদাহরণ। আমরা চাই, ক্ষমা চেয়ে স্পষ্ট বিবৃতি দিন, যাতে পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটে।”
বিবেচ্য বিষয় হলো, এই মন্তব্যের ফলে সাধারণ নাগরিক এবং শিক্ষিত নারী সমাজের মধ্যে একরকম সামাজিক প্রতিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী ও গৃহিণী—সকলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং সরাসরি প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। ঝাড়ু মিছিলের মাধ্যমে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়ে মানুষ দেখিয়েছে, নারীর মর্যাদা আর হীনভাবে অবমূল্যায়ন করা যাবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাদের এমন মন্তব্যে শুধু নারীর সম্মান ক্ষুণ্ণ হয় না, বরং পুরো সমাজের নৈতিক কাঠামোও আঘাত পায়। নাগরিকদের এই প্রতিবাদ নির্দেশ করছে, যে সমাজে নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
এ পরিস্থিতিতে একমাত্র যৌক্তিক সমাধান হলো স্পষ্ট ক্ষমা ও প্রতিশ্রুতি, যাতে ভবিষ্যতে এমন বক্তব্য প্রকাশ না হয়। পেশাজীবী নারীরা বলছেন, “আমরা আমাদের অধিকার, মর্যাদা এবং স্বাধীনতা রক্ষায় সচেতন থাকব। কেউ আমাদের কাজ বা নেতৃত্বকে অবমূল্যায়ন করতে পারবে না।”
জামায়াত আমিরের বক্তব্য দেশের নারী সমাজের প্রতিরোধ সৃষ্টি করেছে। পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও গৃহিণী নারীরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, এবং সমাজকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন—নারীর মর্যাদা সর্বোচ্চ।
