ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে বাংলাদেশ
খেলাধুলা ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৩৪ পিএম, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে বাংলাদেশ
দক্ষিণ এশিয়ার বয়সভিত্তিক ফুটবলের মর্যাদার আসর সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রাখলো বাংলাদেশ।
গতকাল সোমবার নেপালের পোখরায় অনুষ্ঠিত নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ২-০ গোলে হারায় লাল-সবুজের মেয়েরা। বিজয়ী দলের হয়ে অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস ও ফরোয়ার্ড আলপি আক্তার একটি করে গোল করেন। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে কাল ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ।
যদিও ম্যাচের শুরু থেকে বাংলাদেশের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে খেলে ভারত। তবে ভারতের আক্রমণ সামলে দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে পাল্টা আক্রমণে গিয়ে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে লাল-সবুজরা। যা থেকে প্রথমার্ধেই জোড়া গোল আদায় করেন নেন অর্পিতা বিশ্বাসরা।
ম্যাচের ৫ মিনিটে গোলের ভালো সুযোগও পেয়েছিল ভারত। তাদের ফরোয়ার্ড শট নিলেও তা লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। পরের মিনিটে বাংলাদেশের বক্সে উড়ন্ত বলে মাথা ছোঁয়াতে পারলে গোল পেতে পারতেন পার্ল ফার্নান্দেজ।
ম্যাচের সময় গড়াতেই ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরে বাংলাদেশ। লেফট উইং দিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন মামনি চাকমা। প্রথম গোল হওয়ার আগে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে লাল-সবুজরা।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে গোলের দেখা পায় তারা। এসময় মামনি চাকমার দারুণ এক ফ্রি কিক থেকে লিড নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ডান পাসের কর্নারের কাছ থেকে সরাসরি গোলে শট নেন মামনি। বল ঠিকানা খুঁজে নিচ্ছিলো জালের। কিন্তু লাফিয়ে ফিস্ট করে বল বের করার চেষ্টা করেন ভারতীয় গোলরক্ষক মুন্নি। তার হাতে লেগে বল মাটিতে পরার মুহূর্তে ফাইনাল টাচে তা জালে ঠেলে দেন অর্পিতা (১-০)।
এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে লড়ে বিজয়ীরা। ৩৭ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। মাঠে নামেন বন্যা খাতুন ও শান্তি মার্ডি। দারুণ খেলতে থাকা মামনির সঙ্গে ক্রানুচিং মারমাকে তুলে নেন কোচ বাটলার।
ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে ম্যাচের ৪০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। এসময় ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ক্রস দেন তৃষ্ণা রানী। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে টপকে বলের লাইনে পা ছুঁইয়ে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো উদযাপনের সুযোগ এনে দেন ঘরোয়া নারী লিগের এবারের আসরে সর্বোচ্চ ৩০ গোল করা আলপি (২-০)।
বিরতিতে যাওয়ার আগে নিজের দ্বিতীয় গোলের সুযোগ হারান আলপি। ৪২ মিনিটে পূজার লং বল হেডে মাটিতে নামান তিনি, কিন্তু গোলমুখের সামনে থেকেও গোল করতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে নেওয়া আলপির শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১ মিনিট) প্রীতিকার শট লাফিয়ে গ্লাভস বন্দি করেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম। ফলে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতির পর ভারত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। তবে সফল হতে পারেনি। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে বাংলাদেশ বক্সে ভারত অধিনায়ক জুলান নংমাইথেমের ভলি শট নিলে তা অল্পের জন্য জাল খুঁজে পায়নি। সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশও আক্রমণে উঠে। ৫৬ মিনিটে বক্সের সামনে ভারতের ডিফেন্ডার থান্ডা মনির কাছ থেকে বল কেড়ে নেন মুনকি।
সামনে ছিল ভারতের চার-পাঁচজন খেলোয়াড়। তাদের উপর দিয়েই পোস্টে জোরালো শট নিয়েছিলেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার। কিন্তু লাফিয়ে কর্নারের বিনিময়ে মুনকিকে গোলবঞ্চিত রাখেন ভারতের গোলরক্ষক মুন্নি। ৭০ মিনিটে ভারতের একটি প্রচেষ্টা জয়নব বিবি ক্লিয়ার করে দলকে গোল হজম থেকে রক্ষা করেন।
বাকি সময় আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। ফলে দুই গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে গোলবন্যায় ভাসালেও ভারত তাদের প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে মাত্র ১-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছিল। চার দলের অংশগ্রহণে লিগভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে একবার করে মাঠে নামবে।
এই হিসেবে প্রতি দলকে খেলতে হবে তিনটি করে ম্যাচ। তিন ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দুই দল খেলবে ফাইনালে। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আগামীকাল স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে ড্র করলেও ফাইনালে উঠবে লাল-সবুজের মেয়েরা।
