২০৩০ সালের মধ্যে ৫৪ লাখ শিশুর মৃত্যুঝুঁকি: গবেষণা সতর্কবার্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৪১ পিএম, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
২০৩০ সালের মধ্যে ৫৪ লাখ শিশুর মৃত্যুঝুঁকি
বিদেশি উন্নয়ন সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৫৪ লাখ শিশুর মৃত্যু হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে একটি নতুন বৈশ্বিক গবেষণায়। একই সময়ে মোট প্রতিরোধযোগ্য অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি ছাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।
সংবাদসংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা যায়, আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ-এ প্রকাশিত গবেষণায় এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, গত দুই দশকে শিশু মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল দাতা দেশগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচি, মাতৃস্বাস্থ্য সেবা, অপুষ্টি মোকাবিলা, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ।
তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় দাতা দেশগুলোর আকস্মিক ও বড় পরিসরের সহায়তা কমানো হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বড় ধাক্কা খেতে পারে। এতে এতদিনের অর্জিত অগ্রগতি উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গবেষণায় ২০০২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিদেশি সহায়তা পাওয়া দেশগুলোর মৃত্যুহারের সঙ্গে উন্নয়ন সহায়তার ওঠানামার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর ২০৩০ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রভাব তিনটি ভিন্ন পরিস্থিতির ভিত্তিতে মডেল করা হয়েছে— সহায়তা বর্তমান মাত্রায় স্থির থাকলে, সাম্প্রতিক ধারা অনুযায়ী ধীরে ধীরে কমলে এবং মারাত্মকভাবে কমে গেলে (২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেলে)
সবচেয়ে গুরুতর কাটছাঁটের ক্ষেত্রে গবেষণার মডেল অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২ কোটি ২৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এর মধ্যে ৫৪ লাখ হবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, যারা মূলত প্রতিরোধযোগ্য রোগ, অপুষ্টি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কারণে প্রাণ হারাতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সহায়তা হ্রাস পেলে টিকাদান কর্মসূচি, প্রসূতি সেবা, শিশুপুষ্টি এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বড় ধস নামতে পারে—যা সরাসরি শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পূর্বাভাস নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি শক্ত সতর্কবার্তা—স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা শুধু মানবিক সহায়তা নয়, বরং জীবনরক্ষাকারী বিনিয়োগ।
