প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:৩৯ পিএম, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।
২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সাময়িকীটির সর্বশেষ সংখ্যায় ছাপা এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবচেয়ে শক্ত দাবিদার তারেক রহমান। প্রতিবেদনে তাকে ‘খ্যাতনামা রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে বর্ণনা করা হয়, রাজধানী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ অভিমুখে বুলেটপ্রুফ বাসে তারেক রহমানের যাত্রাপথে রাস্তার দুই পাশে বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হন। প্রতি কয়েক মাইল পরপর গাড়িবহর ধীর হয়ে আসে, যাতে সমর্থকেরা তাকে এক ঝলক দেখতে পারেন। গার্মেন্টস কারখানার জানালায় দাঁড়িয়ে নারী শ্রমিকদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। চার ঘণ্টার যাত্রা শেষে ময়মনসিংহে জনসভায় পৌঁছানোর সময়ও তাকে একইভাবে সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দিতে দেখা যায়।
দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, এই নির্বাচন হবে ১৮ মাস আগে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম ভোট। ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সাময়িকীটির মতে, গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও মন্তব্য করেছে সাময়িকীটি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালের পর দেশে অর্থবহ নির্বাচন হয়নি এবং বিপুলসংখ্যক ভোটার কখনোই প্রকৃত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।
ঢাকা-ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক বিআইপিএসএস-এর গবেষক শাফকাত মুনির বলেন, ‘আমার জীবনের দুই দশক ধরে আমার ভোটের কোনো মূল্য ছিল না।’ বর্তমানে রাজধানীজুড়ে নির্বাচনী ব্যানার ঝুলছে এবং নির্বাচন পরিচালনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকার নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছে। সাময়িকীটি জানায়, অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সরকার কিছু সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা এবং একটি উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয় রয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ফলে রাজনৈতিক মাঠে পুরোনো দলগুলোর প্রভাব বেড়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করেছে। তবে দলটির উত্থান শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের জন্য পরিস্থিতি অনুকূল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে দ্য ইকোনমিস্ট। জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ফিরেছেন।
নিজের প্রচারণা বাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং স্বাধীন আদালত সেগুলো বাতিল করেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গেলে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পানি সংকট নিরসনে খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তার সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতদের ঘটনায় দায়ীদের বিচার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিবেদনটির শেষাংশে বলা হয়, ব্যবসায়ী মহল ও উদারপন্থীদের একটি বড় অংশ তারেক রহমানকে সমর্থন দিচ্ছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, লন্ডন থেকে ফিরে আসা তারেক রহমান আগের চেয়ে বদলে গেছেন। বিকল্প শক্তিগুলোর দুর্বলতার কারণে তার সামনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ তুলনামূলকভাবে সুগম হয়েছে।
