রাজধানীতে গাছে গাছে আমের মুকুল
অনু সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:৪৩ পিএম, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
ছবি: সংগ্রহিত।
শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে রাজধানীর গাছে গাছে ফুটে উঠেছে আমের মুকুল। ধুলোমলিন শহরের রাস্তায় হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ছে মিষ্টি গন্ধ—চেনা, কিন্তু বহুদিন পর নতুন করে পাওয়া। অফিসপাড়া, মহল্লার অলিগলি কিংবা পুরোনো বাসাবাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা আমগাছগুলো যেন নীরবে জানিয়ে দিচ্ছে, প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মেই ফিরে আসে।
ভোরবেলা কিংবা বিকেলের নরম আলোয় মুকুলে ভরা ডালপালা সবচেয়ে সুন্দর লাগে। কোথাও সাদা, কোথাও হালকা হলদে রঙের মুকুলে ভরে আছে পুরো গাছ। বাতাসে দুলে দুলে ছড়িয়ে পড়ছে তার গন্ধ। পথচারীরা থমকে তাকাচ্ছেন, কেউ কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন। কংক্রিটের শহরে এই দৃশ্য যেন একটুকরো গ্রাম ঢুকে পড়া।
শহরের পরিবেশবিদরা বলছেন, এ বছর তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকায় আমগাছে ভালো মুকুল এসেছে। তবে বায়ুদূষণ ও রাস্তার ধুলাবালু মুকুলের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পানি দেওয়া আর গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখলে মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা কমে।
মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা রওশন আরা বলেন, “প্রতিবছরই গাছে মুকুল আসে, কিন্তু এবার বেশি মনে হচ্ছে। সকালে জানালা খুললেই গন্ধ পাই। মনটা ভালো হয়ে যায়।” একই কথা বললেন মিরপুরের এক বৃদ্ধ, “এই গাছটা আমি নিজ হাতে লাগিয়েছিলাম। এখন মুকুলে ভরে গেছে—মনে হয় নিজের সন্তানের মুখ দেখছি।”
মুকুল শুধু সৌন্দর্য নয়, আশার প্রতীকও। এখনো অনেক দিন বাকি আম পাকার। তবু এই মুকুলই জানিয়ে দিচ্ছে, সামনে আসছে গ্রীষ্ম—আমের রস, কাঁচা আমের টক, আচার আর ভাতের সঙ্গে আমডালার দিন। শহরের শিশুরাও মুকুল দেখে জিজ্ঞেস করছে, “কবে আম হবে?”
তবে নগরবাসীর জন্য এই মুকুল আরেকটি বার্তাও বয়ে আনে—গাছ বাঁচানোর বার্তা। নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাসাবাড়ির ছাদে ও উঠানে ফলদ গাছ লাগালে শুধু ফলই পাওয়া যায় না, বরং শহরের তাপমাত্রা কমাতে ও বায়ু বিশুদ্ধ রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
রাজধানীর গাছে গাছে আমের মুকুল তাই শুধু ঋতুর বদলের খবর নয়, প্রকৃতির সঙ্গে শহরের মানুষের এক নীরব সম্পর্কের কথাও বলে। ধুলো আর শব্দের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মুকুল যেন জানিয়ে দেয়—শহরেও বসন্ত আসে, শহরেও গ্রাম ফিরে আসে কিছু সময়ের জন্য।
