সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা আনছে স্পেন-গ্রিস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৩:১৮ পিএম, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
প্রতীকী ছবি।
ফ্রান্সের পর এবার স্পেন ও গ্রিসও কিশোর বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটছে। এর ফলে ইউরোপজুড়ে শিশু ও কিশোরদের অনলাইন উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ। সরকারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের সময় নষ্ট করার পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্পেন ইতোমধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। দেশটিতে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, স্পেনের প্রায় ৮২ শতাংশ নাগরিকই এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন। জনসমর্থনের এই শক্ত অবস্থান সরকারকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছে।
একই পথে এগোচ্ছে গ্রিসও। দেশটির সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা শিগগিরই আসতে পারে। এ বিষয়ে গ্রিসের ডিজিটাল গভার্নেন্স মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে জানানো হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট সময় এখনো জানানো হয়নি।
এর আগে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। ফ্রান্স গত মাসেই ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি বিল পাস করেছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যেও পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দেয়।
বিশ্বব্যাপী এই প্রবণতার সূচনা করে অস্ট্রেলিয়া। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশটি বিশ্বে প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে। এরপরই ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা জোরালো হয়।
সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মতে, সোশাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানো শিশুদের পড়াশোনা, সামাজিক আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এসব প্ল্যাটফর্মে ঘৃণামূলক বক্তব্য, সহিংস কনটেন্ট ও অনলাইন নির্যাতনের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, তার সরকার এমন একটি আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো ঘৃণামূলক বক্তব্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নির্বাহীদের ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা যাবে।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপের দেশগুলোর এই ধারাবাহিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পর্যায়েও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
