নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই, বাড়তি দামে নাজেহাল ক্রেতারা
অনু সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:০৮ এএম, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
শীতের শেষপ্রান্তে এসে সবজির জোগান কিছুটা বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে স্বস্তি ফিরেনি সাধারণ মানুষের জীবনে। চাল, ডাল, তেল ও বেশিরভাগ সবজির দাম এখনও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত থাকলেও কয়েকটি পণ্যে নতুন করে দাম বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কারওয়ান বাজার, রামপুরা ও মিরপুর এলাকার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাঝারি মানের চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়, মিনিকেট চাল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। মোটা চালের দাম ৫৫ থেকে ৫৮ টাকার মধ্যে রয়েছে।
ডালের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, মুগ ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং ছোলার ডাল ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তেলের বাজারে সয়াবিন তেল (বোতলজাত) লিটারপ্রতি ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং খোলা তেল ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সবজির বাজারে তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম দামের হলেও বেশিরভাগ সবজির দাম এখনও চড়া। আলু কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিম ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং ফুলকপি–বাঁধাকপি প্রতিপিস ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে দাম আরও বেশি। রুই ও কাতলা মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ইলিশের দাম কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার ওপরে।
কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা চাকরিজীবী আবদুল মালেক বলেন, “বাজারে জিনিসের দাম কমার কোনো লক্ষণই দেখি না। বেতন তো বাড়ে না, কিন্তু বাজারের খরচ দিন দিন বাড়ছে। এখন সপ্তাহে দুইবার বাজার করাই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
একই বাজারের আরেক ক্রেতা গৃহিণী রোকসানা বেগম বলেন, “আগে ৫০০ টাকায় যে বাজার করা যেত, এখন সেখানে এক হাজার টাকা লাগছে। মাছ–মাংস তো কিনতেই ভয় লাগে। সবজি দিয়েই সংসার চালাতে হচ্ছে।”
বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারেই দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারে কমানোর সুযোগ নেই। রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. হানিফ বলেন,
“আমরা নিজেরা বেশি দামে কিনে আনছি। আড়ত থেকে যেভাবে কিনতে হচ্ছে, সেভাবেই বিক্রি করছি। লাভ তেমন নেই, কিন্তু ক্রেতাদের রাগ আমাদের ওপরই পড়ে।”
মাছ বিক্রেতা শওকত আলী জানান, “ডিজেল, বরফ আর পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাছের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। নদী ও ঘাট থেকে আনা মাছের পরিমাণও আগের মতো নেই।”
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের দামে। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি না থাকায় সাধারণ ক্রেতারা বাড়তি দামের বোঝা বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভোক্তারা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বাড়ানো হলে দাম কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
