ঢাকা, রবিবার ০৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০:০৪:৫৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কাল থেকে হজের ভিসা ইস্যু শুরু করবে সৌদি আরব

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:৫৬ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের (১৪৪৭ হিজরি) ভিসা ইস্যু শুরু হবে আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। এই ঘোষণা হজ বিষয়ক অফিসগুলোর জন্য প্রকাশিত একটি বিস্তারিত কার্যক্রমভিত্তিক ক্যালেন্ডারের অংশ হিসেবে জানানো হয়। -গালফ নিউজ।

হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, হজযাত্রীদের স্উদি আরবে আগমনের বহু মাস আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু হয় ৮ জুন ২০২৫ থেকে। যা ছিল ১২ জিলহজ ১৪৪৬ হিজরি। ওই দিন বিশ্বব্যাপী হজ বিষয়ক অফিসগুলোর কাছে প্রাথমিক পরিকল্পনাসংক্রান্ত নথি পাঠানো হয়। 

সফর মাসের শুরুতেই এসব অফিসকে নুসুক মাসার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পবিত্র স্থানগুলোর ক্যাম্পসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের অ্যাক্সেস দেয়া হয়। এর ফলে পরিকল্পনা, পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১লা রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি থেকে আবাসন ও মৌলিক সেবাসংক্রান্ত প্রাথমিক চুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষ করা, চূড়ান্ত অপারেশনাল তথ্য সম্পন্ন করা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোতে হজযাত্রী নিবন্ধন চালু করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। জমাদিউল আউয়াল মাসে বড় পরিসরের সেবাচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে একটি হজ সেবা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

২০২৬ সালের শুরুতে প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে। জানুয়ারির মধ্যেই মক্কা ও মদিনায় আবাসন, পরিবহন এবং পবিত্র স্থানগুলোর সেবাসংক্রান্ত সব চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। এরপর ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে। মার্চ মাসে ভিসা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে এবং হজযাত্রীদের আগমনপূর্ব প্রস্তুতি সংক্রান্ত তথ্য জমা নেয়া হবে। মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথম হজযাত্রীদের সৌদি আরবে আগমন শুরু হবে ১৮ই এপ্রিল ২০২৬ (১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি) থেকে। এর মাধ্যমে হজ মৌসুমের চূড়ান্ত কার্যক্রম পর্ব শুরু হবে। ঘোষিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, হজযাত্রীদের আগমনের আগেই অবকাঠামো ও সেবাসমূহ পুরোপুরি প্রস্তুত রাখতে এটি অত্যন্ত জরুরি। প্রস্তুতির পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, বিদেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোর সব সেবাচুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নুসুক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মক্কার আবাসন চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। 

এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। তার মধ্যে ৩০ হাজার হজযাত্রী নিজ নিজ দেশ থেকেই সরাসরি প্যাকেজ বুক করেছেন। আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে প্রায় ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৭৩টি হজ বিষয়ক অফিস তাদের মৌলিক চুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, আর্থিক ও চুক্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নুসুক মাসার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ালেট ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং বুকিং সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হজ বিষয়ক অফিস ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদিত সময়সূচি পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, আগাম ও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতিই একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।