সুদানে চলমান সংঘাতে এক মাসে ২০ শিশু নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪২ এএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
সুদানের চলমান সংঘাতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অন্তত ২০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। নিহত শিশুদের মধ্যে অধিকাংশই দেশের পশ্চিমাঞ্চলের করদোফান ও দারফুর অঞ্চলের বাসিন্দা। এই তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
ইউনিসেফের শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদানের শিশুদের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চলমান সংঘাতের কারণে লাখ লাখ শিশু এখন জীবনরক্ষাকারী সহায়তা, সুরক্ষা ও জরুরি সেবা পুনরুদ্ধারের তীব্র প্রয়োজনের মুখে রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর দারফুরের আল-ফাশের ও করদোফানের কাদুগলি এলাকায় ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষের সংকেত মিলেছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ২০টি এলাকা এখন দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের শিশু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।
সুদানের মোট ১৮টি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর অঞ্চলের পাঁচটি রাজ্য বর্তমানে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে উত্তর দারফুরের কিছু অংশ এখনও সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশের বাকি ১৩টি রাজ্যের অধিকাংশ—দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলসহ রাজধানী খার্তুম—সেনাবাহিনীর অধীনে রয়েছে।
ইউনিসেফ আরও সতর্ক করেছে, চলমান সংঘাতের অব্যাহত থাকায় শিশুদের নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তাই আন্তর্জাতিক সহায়তার তাগিদ এবং তৎপরতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের প্রয়োজন।
সুদানে সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘ। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানি সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছানো না হলে শিশুদের জীবন-মান ও নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন অত্যাবশ্যক।
এই প্রতিবেদনে সুদানের শিশুদের দুর্ভাগ্যজনক অবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতাগুলোও তুলে ধরা হয়েছে, যা দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর করছে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
