জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসির কাছে আবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৭:৪৮ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে দেওয়া মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন নারী নেত্রীরা।
আজ রোববার নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা এ আবেদন জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।
আবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী। এ ধরনের বক্তব্য শুধু নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয়, বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী ও আত্মমর্যাদাশীল নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক ভূমিকার অস্বীকৃতি।
আবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দল এ মন্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল হিসেবে ব্যাখ্যা দিলেও ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
নারী নেত্রীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, কথিত ‘হ্যাকিং’-এর ঘটনায় বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ে জড়িত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এতে তথাকথিত ‘হ্যাকিং’-এর দাবি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
মোশরেফা মিশু বলেন, গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের এই অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দেওয়া সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে ওই মন্তব্য প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে বক্তব্য না দেওয়ার অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল।
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও অধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি উপস্থিত ছিলেন।
