আদালতে নির্যাতনের বর্ণনা দিল শিশুগৃহকর্মী মোহনা
আদালত প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৮:১০ পিএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার
প্রতীকী ছবি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের বাসার শিশুগৃহকর্মী মোহনা আদালতে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছে।
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোমের মিয়া মোহনাকে আদালতে হাজির করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।
জবানবন্দি শেষে মোহনাকে জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করেন তার বাবা গোলাম মোস্তফা। তবে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া মোহনা অসুস্থ থাকায় তাকে পুনরায় হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং সুস্থতা সাপেক্ষে জিম্মার বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানান।
মোহনার পরিবারকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি। সংস্থাটির সদস্য ফাহমিদা আক্তার রিংকি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১ মার্চ গোলাম মোস্তফা বিমান বাংলাদেশের এমডি সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি, বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর শিশুকে দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ের খোঁজ করছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে গত বছরের জুনে মোস্তফা তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান।
সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মেয়েকে দেখে আসেন গোলাম মোস্তফা। এরপর তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে গোলাম মোস্তফাকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়েটিকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ওই সময় মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান গোলাম মোস্তফা। মেয়েটি ঠিকভাবে কথা বলতে পারছিল না। নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে বীথি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সে তার বাবাকে জানায়, ওই বাসায় তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হতো। মারধরের পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছেঁকা দেওয়া হতো বলেও সে অভিযোগ করে।
