বোরকা ব্যবহার করে জাল ভোটের শঙ্কা, দায় নিতে হবে ইসিকে: বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৪৪ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
বোরকা-নিকাব ব্যবহার করে জাল ভোটের শঙ্কা, দায় নিতে হবে ইসিকে: বিএনপি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বোরকা ও নিকাব ব্যবহার করে বড় ধরনের জালিয়াতি এবং ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, ইসলামের নামে রাজনীতি করা একটি নির্দিষ্ট দল ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিচয় শনাক্ত না করেই কাউকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তার দায়ভার নির্বাচন কমিশনকেই (ইসি) নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘আমরা খবর পাচ্ছি, জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বোরকা ও নিকাব প্রস্তুত করা হয়েছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। এ অবস্থায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্তসংখ্যক নারী পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ এবং আইন অনুযায়ী ভোটারদের মুখমণ্ডল খুলে পরিচয় শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের একটি বড় অংশ বিএনপির উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তারা উদাহরণ হিসেবে সৌদি আরবে হজ ও উমরার সময় নারী হাজিদের পরিচয় শনাক্ত করার বিধানের কথা উল্লেখ করেন। তাদের মতে, নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দর ও হারামাইন শরিফাইনের প্রবেশপথে নারী নিরাপত্তাকর্মীরা পাসপোর্ট বা আইডির ছবির সঙ্গে মিলিয়ে মুখমণ্ডল যাচাই করেন। এমন বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় শতভাগ মুখ ঢেকে পরিচয় শনাক্ত না করেই ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে মত দিয়েছেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে পারে। কোনো কোনো কেন্দ্রে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নিকাব সরাতে বললে সেটিকে ইস্যু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় উসকানি বা সাইবার প্রচারণা চালানো হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা হজের ছবির মতো নারী ভোটারদের ক্ষেত্রেও নারী পোলিং কর্মকর্তার মাধ্যমে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করার বিধান কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব রাজনৈতিক দলকে নারী বুথে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এবং বোরকার আড়ালে ভুয়া ভোট প্রদানের ঘটনা ঘটলে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুতর সংকটে পড়বে। সতর্কতার পরও এমন ঘটনা ঘটলে এর দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।
