ঢাকা, মঙ্গলবার ১০, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:০২:২২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রয়টার্স: ক্ষমতার দোরগোড়ায় তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:০১ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের শাসনক্ষমতা গ্রহণের একেবারে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছেন—এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অঙ্গনে তার এই প্রত্যাবর্তন দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০০৮ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যাওয়ার পর টানা ১৭ বছর বিদেশে অবস্থান করেন তারেক রহমান। গত ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে দ্রুতই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে সক্রিয় হন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে উঠে আসেন।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেই সুযোগেই তারেক রহমানের উত্থান ঘটেছে। এই পরিবর্তনকে অনেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারায় একটি বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচনী প্রচারে তারেক রহমান একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে এমন সাংবিধানিক সংস্কার আনা হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারেন। তার মতে, এতে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও একাধিক অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন তিনি। দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন তারেক রহমান। তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি খেলনা, চামড়াজাত পণ্যসহ নতুন শিল্প খাত গড়ে তোলার কথাও বলেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে রয়টার্স জানায়, তারেক রহমান ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতিতে বিশ্বাসী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। কোনো একক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য ক্ষমতায় আসার ঘটনা নয়; বরং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। একদিকে তিনি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন, অন্যদিকে নিজেকে একজন নীতিনির্ধারক ও ভবিষ্যতমুখী নেতা হিসেবে তরুণ ভোটারদের কাছে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন।

মাঠপর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাকে এই নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বা ‘ফ্রন্টরানার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারেক রহমানের দীর্ঘ ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতার পথে’ যাত্রা চূড়ান্ত পরিণতি পায় কি না।