সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা, রাজধানীতে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৪:১৯ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
ছবি: সংগ্রহিত।
আর মাত্র একদিন পর শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজ মঙ্গলবার সকালে শেষ হচ্ছে প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে এরই মধ্যে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা যৌথ ও এককভাবে চেকপোস্ট স্থাপন করে টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছেন।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। সন্দেহ হলেই মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চালক ও আরোহীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথবাহিনীর বিশেষ এই অভিযান ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীতে ২৬ হাজার ৫১৫ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া আনসার সদস্য থাকছেন ২৭ হাজার ৭০৩ জন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। ভোট উপলক্ষে ডিএমপির ৫১০টি মোবাইল টিম নগরীতে মোবাইল পেট্রোল ডিউটি শুরু করেছে।
রাজধানীর প্রবেশপথের ১১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে—পুরান ঢাকার বাবুবাজার, পোস্তগোলা ব্রিজ, মাতুয়াইল ইউ-লুপ, স্টাফ কোয়ার্টার, বাসাবো সড়ক (কমলাপুর), গাবতলী, পূর্বাচলের ৩০০ ফিট, আবদুল্লাহপুর ব্রিজ, কামারপাড়া ও ধউড় ব্রিজে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
চেকপোস্টে তল্লাশির কারণে কোথাও কোথাও পথচারীরা সাময়িক ভোগান্তির শিকার হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তারা। তাদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেজন্য এমন সতর্কতা জরুরি।
গতকাল বাংলামোটর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চালক ও আরোহীদের তল্লাশি করছেন। কোথা থেকে আসছেন এবং কোথায় যাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের মাধ্যমে চলাচলের কারণ যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কাগজপত্রও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই জয়নাল আবেদীন বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ি করা হবে।
রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে দায়িত্বে থাকা এক পরিদর্শক জানান, ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ ও র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহন শনাক্ত করাই চেকপোস্টের মূল উদ্দেশ্য।
এদিকে মোহাম্মদপুরে বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ তিন কারবারিকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৩ ইস্ট রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যাতে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে। গত তিন দিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২১টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। সোমবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও পুলিশের পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রাজধানীতে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, রাজধানীতে মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর আটটি বিভাগে আটটি কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন ভ্যান ও আর্মড পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
