আপনার ভোট অন্য কেউ দিলে কী করবেন
জোসেফ সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪১ এএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
প্রতীকী ছবি।
কোনো ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যদি জানতে পারেন, তার ভোট আগেই অন্য কেউ দিয়ে গেছেন—তখন কী করবেন? বাস্তবে এমন ঘটনা বিরল নয়। জাল ভোট বা ভুল পরিচয়ে কেউ ভোট দিলে অনেক সময় প্রকৃত ভোটার হতাশ হয়ে কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। অথচ নির্বাচনি আইনে এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভোট দেওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে।
ভোট আগেই দেওয়া থাকলে করণীয় (টেন্ডার্ড ভোট)
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো ভোটার প্রমাণ করতে পারলে যে তিনি ভোট দেননি এবং তার নামে যে ব্যক্তি ভোট দিয়েছে, তিনি সেই ব্যক্তি নন—তাহলে তিনি প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে ব্যালট পেপার চাইতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসার ওই ভোটারের নামে ব্যালট ইস্যু করবেন।
তবে এই ভোট ব্যালট বাক্সে ফেলা হবে না। আলাদা একটি খামে রেখে তা সংরক্ষণ করা হবে। আইনের ভাষায় একে বলা হয় ‘টেন্ডার্ড ভোট’। এই ভোট গণনার আওতায় আসে না। তাই একে অনেক সময় ‘সান্ত্বনামূলক ভোট’ বলা হয়।
ভোটার হিসেবে আপনার বিরুদ্ধে আপত্তি উঠলে
ভোট দিতে গেলে পোলিং এজেন্ট যদি দাবি করেন যে—
ওই ভোটার আগেই ভোট দিয়েছেন, অথবা
যে ব্যক্তির নামে ভোট দিতে এসেছেন, তিনি প্রকৃত ব্যক্তি নন—
তাহলে ওই ভোটারকে আদালতে অভিযোগ প্রমাণে অঙ্গীকার করে ১০০ টাকা মুচলেকা দিতে হবে। এরপর প্রিসাইডিং অফিসার ব্যালট ইস্যু করবেন।
এ ক্ষেত্রে ভোটটি ব্যালট বাক্সে না ফেলে ‘আপত্তিকৃত ব্যালট পেপার’ হিসেবে আলাদা খামে রাখা হবে। এই ভোট গণনার আওতায় আসবে এবং কোনো প্রার্থীর জয়–পরাজয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
টেন্ডার্ড ভোট ও আপত্তিকৃত ভোটের পার্থক্য
টেন্ডার্ড ভোট: গণনার আওতায় আসে না
আপত্তিকৃত ভোট (চ্যালেঞ্জড ব্যালট): গণনার আওতায় আসে
এই দুটি পদ্ধতির বিধান থাকলেও অধিকাংশ ভোটার এ বিষয়ে জানেন না। ফলে অনেকেই ভোট না দিয়ে কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান।
নির্বাচনি এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টের ভূমিকা
নির্বাচনে প্রার্থী একজন নির্বাচনি এজেন্ট এবং একাধিক পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে পারেন।
নির্বাচনি এজেন্ট প্রার্থীর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পোলিং এজেন্টদের জন্য আইনে নির্দিষ্ট যোগ্যতার কথা বলা না হলেও জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয় না।
রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাইয়ের স্বার্থে এনআইডি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও অন্য এলাকার ব্যক্তিকেও পোলিং এজেন্ট করা যায়।
অভিজ্ঞতা ছাড়াই বড় নির্বাচনের আয়োজন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এর আগে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন না করেই একসঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করতে হচ্ছে কমিশনকে।
২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান কমিশনের ভোট পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা সীমিত। একটি কেন্দ্রে চার ঘণ্টায় ৫০০ ভোটারের ‘মক ভোটিং’ ছাড়া বড় পরিসরের ভোট ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা তাদের নেই। ফলে একই দিনে দুটি বড় ভোট আয়োজন প্রশাসনিকভাবে কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
সচেতনতার অভাব বড় সমস্যা
নির্বাচনি আইনে বিকল্প ভোটদানের সুযোগ থাকলেও ভোটারদের বড় অংশ এ বিষয়ে অবগত নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেন্ডার্ড ভোট ও আপত্তিকৃত ভোট সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালানো গেলে জাল ভোটের বিরুদ্ধে ভোটারদের আস্থা বাড়বে এবং ভোটাধিকার রক্ষাও সহজ হবে।
