আইসিই হেফাজতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিবন্ধী নারীকে নির্যাতন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৪৪ এএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আলিয়া রহমান নামে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। অটিজম এবং মস্তিষ্কের আঘাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত এই নারী গত ৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিলে এক শুনানিতে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
গত ১৩ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিস শহরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী অভিযান 'অপারেশন মেট্রো সার্জ' চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। আলিয়া রহমান তখন নিজের গাড়ি চালিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন। পথে আইসিই এজেন্টরা তাকে গাড়ি থামাতে বাধ্য করে এবং চরম দুর্ব্যবহার শুরু করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মাস্ক পরিহিত সশস্ত্র এজেন্টরা আলিয়াকে গাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামাচ্ছেন। আলিয়া বারবার চিৎকার করে বলছিলেন, "আমি প্রতিবন্ধী", কিন্তু এজেন্টরা তা কানেই তোলেনি। এমনকি একজন অফিসার ছুরি দিয়ে তার সিটবেল্ট কেটে তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে তাকে হাত-পা বেঁধে পশুর মতো পাঁজাকোলা করে একটি গাড়িতে তোলা হয়।
আলিয়া রহমান শুনানিতে জানান, তাকে আটক করার সময় তার আইনি অধিকার সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি তাকে কোনো ফোন কল করতে বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। ডিটেনশন সেন্টারে তাকে মানুষ হিসেবে নয়, বরং 'বডি' হিসেবে সম্বোধন করা হতো।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আলিয়ার হাঁটার জন্য লাঠির প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তাকে তা দিতে অস্বীকার করা হয়। একপর্যায়ে তিনি কথা বলার ক্ষমতা হারাতে শুরু করলেও তাকে কোনো সাহায্য করা হয়নি। তিনি সেলের মেঝেতে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার সহবন্দীদের চিৎকারে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আলিয়ার আইনজীবী অ্যালেক্সা ভ্যান ব্রান্ট বলেন, "আলিয়া রহমান আজ বেঁচে আছেন এটাই ভাগ্যের ব্যাপার।" তিনি জানান, আলিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ ছিল না, তবুও তাকে এভাবে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছে। ম্যাকার্থার জাস্টিস সেন্টার এখন তার পক্ষে আইনি লড়াই লড়ছে।
অন্যদিকে, আইসিই তাদের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি খণ্ডিত ভিডিও পোস্ট করে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার কর্মীরা এই বর্বরোচিত অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
আলিয়া রহমান কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমরা নিজেদের একটি সভ্য জাতি বলি, কিন্তু কোনো নিয়ম-কানুন বা জবাবদিহিতা নেই যে একজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা অন্য একজন মানুষের সাথে কী করতে পারেন।"
