গাজায় পড়ালেখা ছেড়ে কাজে বাধ্য হচ্ছে শিশুরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪২ এএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তখনও সূর্য পুরোপুরি আকাশে ওঠেনি, ভোর সাড়ে পাঁচটা। জনাকীর্ণ তাঁবুর মধ্যে ঘুম ভেঙেছে ১৫ বছর বয়সী মাহমুদ। তবে সে স্কুলব্যাগের দিকে এগোতে পারে না। বরং হাতে তুলে নিল একটি বস্তা। মাহমুদ বলল, “এখন বস্তাটা খালি। ভরে যাওয়ার আগেই আমি এর ওজন টের পাচ্ছি। হাঁটা শুরু করার আগেই আমার পিঠে ব্যথা শুরু হয়।”
পথে সে কার্ডবোর্ড, পলিথিন, কাঠ—এমন সব বাতিল জঞ্জাল সংগ্রহ করে। তারপর ফিরে আসে বাসায়। মাহমুদের ভাষায়, “কখনো কখনো ছয় ঘণ্টা হাঁটলেও আমি মাত্র কয়েক টুকরা কাঠ পাই। ময়লা–আবর্জনার ধুলাবালি আমার ফুসফুসে ঢুকে যায়। সারা রাত কাশি হয়। তবে করার কিছু নেই। রুটি বানানোর জন্য কোনো আগুন নেই।”
পরিবারের জন্য মাহমুদের গভীর দায়িত্ববোধ রয়েছে। গত বছরের শুরুর দিকে ইসরায়েলের হামলায় তার বাবার মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামলা শুরুর পর থেকে তাঁর পরিবারের অন্তত ৭০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। মাহমুদ বাড়ির বড় ছেলে। তাই সে জানে, বয়স কম হলেও তাকে কি করতে হবে।
মাহমুদ জানে, তার জীবনটা অন্য রকম হতে পারত। যুদ্ধের আগে সে স্কুলে যেত। বাবা তখন বেঁচে ছিলেন। মাঝে মাঝে বাজারে যেতেও তার গণিত শিক্ষকের সঙ্গে দেখা হতো। মাহমুদ বলল, “আমার শিক্ষককে এভাবে দেখতে ভালো লাগে না। আমি তখন তার একজন সেরা ছাত্র ছিলাম।”
দুই বছর ধরে টানা হামলায় গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এ সময় গাজায় ৯৭ শতাংশের বেশি স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে গাজায় স্কুলগামী ৬ লাখ ৫৮ হাজার শিশুর বেশির ভাগই পড়াশোনার সুযোগ বঞ্চিত হয়েছে।
এছাড়া, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরুর পরও স্কুলগুলো ঠিকমত খোলা হয়নি। গাজায় ঠিক কত শতাংশ শিশু পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নামেছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের মতে, এমন শিশুর সংখ্যা বহুগুণে বেড়েছে।
মনোবিজ্ঞানী ইয়াকিন জামাল বলেন, “গাজায় আমরা যা দেখছি, তা শুধু শিশুশ্রম নয়। এটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করছে।” যুদ্ধ, ধ্বংস ও অভাবের কারণে গাজার শিশুরা স্কুলের পরিবর্তে জীবিকার তাগিদে কাজে বাধ্য হচ্ছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
