রাজধানী ঢাকা, আজও বেশ ফাঁকা
অনু সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৪৮ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
নির্বাচন ও টানা ছুটির রেশ এখনো কাটেনি রাজধানী ঢাকায়। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নগরজুড়ে দেখা গেছে মানুষের চলাচল ও কর্মচাঞ্চল্য কম। ব্যস্ত সময়ের তুলনায় সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ ছিল অনেকটাই কম। ফলে যানজটমুক্ত অবস্থায় চলাচল করেছে গাড়ি।
সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে স্বাভাবিক দিনের মতো ভিড় দেখা যায়নি। শাহবাগ, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, মতিঝিল, গুলিস্তান ও সায়েন্সল্যাব এলাকার সড়কে যানবাহন চলাচল থাকলেও চাপ ছিল সীমিত। গণপরিবহনগুলোতে যাত্রী ছিল তুলনামূলকভাবে কম। অনেক বাসে অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা দেখা গেছে।
অফিসপাড়া হিসেবে পরিচিত মতিঝিল, কাওরান বাজার ও আগারগাঁও এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল কম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক কর্মচারী এখনো গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরেননি। ফলে অফিস কার্যক্রম চলছে সীমিত আকারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসেনি। বেশ কয়েকটি স্কুল ও কলেজে ক্লাস শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাগুলোতেও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ভিড় দেখা যায়নি। শিক্ষকরা বলছেন, ধীরে ধীরে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরা সম্ভব হবে।
শহরের বড় বড় বিপণিবিতান ও মার্কেট খোলা থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম। নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, বসুন্ধরা সিটি ও গুলিস্তান এলাকার দোকানিরা জানান, ছুটি ও নির্বাচনের কারণে ক্রেতারা এখনও ঢাকায় পুরোপুরি ফিরেননি। তবে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কিছু ফুলের দোকান ও উপহারের দোকানে তুলনামূলক ভিড় দেখা গেছে।
রিকশাচালক ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, যাত্রী কম থাকায় আয়ও কম হচ্ছে। ফার্মগেট এলাকায় এক রিকশাচালক বলেন, ‘সাধারণ দিনে যেখানে সকালেই ভালো যাত্রী পাওয়া যায়, সেখানে আজ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও যাত্রী মিলছে না।’
অন্যদিকে যানজট কম থাকায় নগরবাসীর একাংশ স্বস্তি প্রকাশ করেছে। ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও অফিসগামী যাত্রীরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন তারা। তবে ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বলছেন, মানুষের চলাচল কম থাকায় বেচাকেনাও কম হচ্ছে, যা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও ছুটির প্রভাবে রাজধানী থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িতে গেছেন। এখন ধাপে ধাপে তারা ঢাকায় ফিরবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্র পুরোপুরি সচল হলে রাজধানীর চিরচেনা ব্যস্ততা ফিরে আসবে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এই সময়টাতে ঢাকার সড়ক ও অবকাঠামোর ওপর চাপ তুলনামূলক কম থাকায় রক্ষণাবেক্ষণমূলক কাজ দ্রুত করা সম্ভব। তবে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এলে আবারও বাড়বে যানজট ও জনসমাগম।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সপ্তাহের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে ঢাকায় মানুষের উপস্থিতি বাড়বে। অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে রাজধানী আবার ফিরবে তার চিরচেনা ব্যস্ত ছন্দে।
