ঢাকা, রবিবার ১৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৭:১৭:০৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বিএনপির জয়: নারী ভোটারদের প্রত্যাশা ও ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:০৬ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর জয়ের পর দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এসেছে নতুন উত্তেজনা। বিশেষভাবে নারী ভোটাররা এবার নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। এবং তাদের প্রতিক্রিয়া বিএনপির জয়ের সাথে সরাসরি জড়িত। নারীদের জন্য এই জয় শুধুই রাজনৈতিক একটি ঘটনা নয়; এটি তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

নারীদের প্রতিক্রিয়া

রাজধানী ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখা গেছে, নারী ভোটাররা তাদের আশাবাদ প্রকাশ করছেন। একাধিক নারী ভোটার বলেন, “বিএনপির জয়ের মাধ্যমে আমরা আশা করি নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।” শিক্ষার্থী, কর্মজীবী এবং গ্রামীণ নারীরা মনে করছেন, এই সরকার তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এক গ্রামীণ নারী ভোটার বলেন, “আমরা চাই শিক্ষা, স্বনির্ভরতা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত হোক। জিয়ার নেতৃত্বে যদি সরকার নারীদের জন্য কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি করতে পারে, তবে তা আমাদের জন্য বড় উদ্দীপনা।”

ভোটারদের প্রত্যাশা

নারী ভোটাররা প্রধানত তিনটি বিষয়েই সরকারের দিকে মনোযোগ রাখার কথা বলছেন:

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: গ্রামীণ এবং শহুরে নারীরা চাই, নারী শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রার্থী যেন কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পায়।

সুরক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা: নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করা।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা: মাতৃসেবা, শিশুস্বাস্থ্য, ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে প্রাপ্ত সুবিধা বাড়ানো।

নারী ভোটাররা মনে করছেন, সরকারের নারী-কেন্দ্রিক নীতি ও প্রোগ্রামগুলো কার্যকর হলে শুধু নারীর অবস্থানই উন্নত হবে না, বরং দেশের সামাজিক কাঠামোও সুসংহত হবে।

বিশ্লেষক দৃষ্টিভঙ্গি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নারীদের সমর্থন একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তারা বলছেন, “নারী ভোটারদের প্রত্যাশা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জও বটে, কারণ এই জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করা গেলে সরকারের নীতি আরও গণমুখী ও সমানাধিকার ভিত্তিক হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের জন্য নারীদের বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে নেওয়া অপরিহার্য।

সমাজে প্রভাব

নারী ভোটাররা আশা করছেন, জিয়ার নেতৃত্বে সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াবে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা চাইবেন মহিলা উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে নারীদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো হোক। শহুরে নারী ভোটাররা চাইবেন নিরাপদ পরিবহন, কর্মক্ষেত্রে সমতা এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হোক।

নাগরিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রত্যাশার প্রতি সরকার যদি মনোযোগী হয়, তবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে এবং সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি পাবে।

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নারী ভোটারদের আশা পূরণ করার ক্ষেত্রে সরকারকে প্রাধান্য দিতে হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা ও দলীয় সমন্বয়, যা নারীদের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে নির্ধারক ভূমিকা রাখবে।

নারী ভোটারদের প্রত্যাশা কেবল রাজনৈতিক নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত। জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হবে, নারীদের অধিকার ও সুযোগের ওপর নজর দেওয়া।