৩৫–৪৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি বিএনপির
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৩৪ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার
ফাইল ছবি।
নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন মন্ত্রিসভায় সংসদ-সদস্য নন—এমন কয়েকজন মেধাবী ও দলের প্রতি নিবেদিত ‘হেভিওয়েট’ নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে মন্ত্রিসভার আকার খুব বড় হবে না; সম্ভাব্য সদস্যসংখ্যা ৩৫ থেকে ৪৫ জনের মধ্যে সীমিত রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শেষ করেছেন। কারা কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন, সে তালিকা সংসদ-সদস্যদের শপথের পর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর দলের সিনিয়র নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রিসভা গঠন, সংসদ-সদস্যদের শপথ এবং নির্বাচন-পরবর্তী সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের বিষয়ে সিনিয়র নেতাদের মতামতও নেন দলীয় প্রধান।
বিএনপির এক নীতিনির্ধারক জানান, বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়—কারা মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন এবং কোন খাতে কাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পরামর্শের ওপর।
এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। তবে এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না, কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির একাধিক প্রবীণ সদস্য ও দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় কয়েকজন অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও সংগঠককে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে। দলীয় দায়িত্বশীলরা জানান, প্রশাসনিক দক্ষতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে টেকনোক্র্যাটদের বাছাই করা হবে।
নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকেও একাধিক নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি যারা মন্ত্রিসভায় স্থান নাও পেতে পারেন, তাদের কাউকে কাউকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
মিত্র দলগুলোর নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের ক্ষেত্রেও সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা ও টেকনোক্র্যাট দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে চায় বিএনপি।
দলটির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান ও প্রফেসর এজেডএম জাহিদ হোসেন, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মো. শাজাহান, ড রেজা কিবরিয়া গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হতে পারেন।
এ ছাড়াও সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, একটি পত্রিকার সম্পাদক, নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে।
এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবীর, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক প্রফেসর মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হলে এদের কাউকে কাউকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্ব পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, খায়রুল কবির খোকন, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, মোহাম্মদ আলী আসগর লবি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
এছাড়া মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন,নুরুল ইসলাম মনি,এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান সরওয়ার, আব্দুস সালাম পিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
এছাড়াও ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শামা ওবায়েদ ও সাঈদ আল নোমানও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে নান গুঞ্জন রয়েছে। মিত্র দলগুলোর নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরকেও মন্ত্রিসভায় স্থান না পেতে পারেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রগুলোর মতে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে দ্রুত প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থায় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য।
