ঢাকা, সোমবার ১৬, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৬:৩১:০১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

সম্রাজ্ঞী উ, ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী এক নারী 

রাতুল মাঝি

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩১ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার

সম্রাজ্ঞী উ, ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী এক নারী 

সম্রাজ্ঞী উ, ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী এক নারী 

প্রযুক্তি জগতের বর্তমান ধনকুবেরদের সম্পদের তুলনায় এক নারীর ধন এতটাই বিরাট ছিল, যে তাদের সম্মিলিত সম্পদও তার কাছে তুচ্ছ মনে হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় ১৩ শতাব্দী আগে চীনের সম্রাজ্ঞী উ জেতিয়ান ছিলেন ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী নারী।

ফোর্বসের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পদ প্রায় ৭.৩ বিলিয়ন ডলার এবং ইলন মাস্কের সম্পদ পৌঁছেছে প্রায় ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে। তবে এই দুই ধনকুবেরের সম্মিলিত সম্পদও সম্রাজ্ঞী উ’র অনুমানিক সম্পদের তুলনায় প্রায় ১১ ট্রিলিয়ন পাউন্ড কম।

সম্রাজ্ঞী উ’র রাজকীয় যাত্রা: উ জেতিয়ানের জন্ম ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে চীনের শানসি প্রদেশে। ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে সম্রাট তাইজং-এর প্রাসাদে সচিব হিসেবে প্রবেশ করেন। নারীদের জন্য শিক্ষা বিরল হলেও উ জেতিয়ান লেখাপড়া ও প্রশাসন নিয়ে দক্ষতা অর্জন করেন।

সম্রাট তাইজং-এর মৃত্যুর পর তার পুত্র গাওজং-এর উপপত্নী হয়ে ধীরে ধীরে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রথমে পর্দার আড়াল থেকে শাসন করেন। পরে ৬৯০ খ্রিস্টাব্দে নিজের ছেলেকে সিংহাসন ত্যাগে বাধ্য করে নিজেই সম্রাটের উপাধি গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী ১৫ বছর সরাসরি চীন শাসন করেন।

সম্পদ ও ক্ষমতা: তাং রাজবংশের শাসনামলে চীন বিশ্বের মোট অর্থনীতির প্রায় ২৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত। সেই বিশাল অর্থনৈতিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সম্রাজ্ঞী উ। আধুনিক অর্থমূল্যে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন পাউন্ড।

সম্রাজ্ঞী উ ছিলেন কঠোর ও অনেক ক্ষেত্রে নির্মম শাসক। ঐতিহাসিক নথিতে তার শাসনামলে রাজনৈতিক ও হত্যাকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার করেন। তিনি মেধাভিত্তিক নিয়োগ চালু করেন এবং সামরিক অভিজাতদের ক্ষমতা কমিয়ে পণ্ডিত ও প্রশাসকদের গুরুত্ব বাড়ান-যা চীনের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করে।

৭০৫ খ্রিস্টাব্দে ৮১ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। বিতর্ক, ক্ষমতা ও সংস্কারের মিশেলে গড়া উ জেতিয়ানের শাসনামল আজও ইতিহাসবিদদের কাছে বিস্ময়কর।

সূত্র: এক্সপ্রেস, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট