রোজ শুরু কাল, বাজারে বাড়তি ভিড়, কিছু পণ্যে দাম চড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৯:৫২ এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
ছবি: সংগ্রহিত।
কাল থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের বাজারে আজ দেখা গেছে বাড়তি ভিড়। রোজার প্রস্তুতি হিসেবে ইফতার ও সেহরির উপকরণ কিনতে সকাল থেকেই বাজারে ছুটছেন ক্রেতারা। তবে সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও কয়েকটি পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
সবজি ও ফলের বাজার:
সরজমিনে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজির দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। বেগুন, শসা, করলা, পটল ও কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। লেবু বিক্রি হচ্ছে হালি ৮০ থেকে ১২০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা। পেঁয়াজ, আলু ও রসুনের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
খেজুর ও ইফতার সামগ্রী
রমজান এলেই যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, তার মধ্যে খেজুর অন্যতম। বাজারে বিভিন্ন মানের খেজুর পাওয়া গেলেও মাঝারি মানের খেজুরের কেজি ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের খেজুরের দাম আরও বেশি। ছোলা, চিনি ও মুড়ির বাজারে বড় কোনো অস্থিরতা না থাকলেও কিছু দোকানে আগের তুলনায় কেজিতে ৫–১০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।
মাছ ও মাংস
মাছের বাজারে দেশি রুই, কাতলা, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ইলিশের দাম আগের মতোই চড়া। মুরগি ও গরুর মাংসের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি, তবে কয়েকটি দোকানে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ
বাজার করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, রমজানের আগে এমনিতেই খরচ বেড়ে যায়, তার ওপর লেবু ও খেজুরের মতো পণ্যের দাম বাড়ায় চাপ আরও বেড়েছে।
একজন ক্রেতা বলেন, “রমজান এলেই কিছু পণ্যের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়। বাজারে পণ্য আছে, কিন্তু দাম কমছে না।”
বিক্রেতাদের বক্তব্য
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার আগে হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বাড়তি।
এক বিক্রেতা জানান, “আমাদের পাইকারি বাজার থেকেই দাম বেশি। তাই খুচরায় কম নেওয়ার সুযোগ নেই।”
সরজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাজারে পণ্যের ঘাটতি নেই। সবজি, ফল, মাছ ও মাংস পর্যাপ্ত পরিমাণেই রয়েছে। তবে রমজানকে ঘিরে চাহিদা বাড়ায় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, বিশেষ করে লেবু ও খেজুরের ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট।
রমজান শুরুর আগের দিনে বাজারে ভিড় ও কেনাকাটা বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ভোক্তারা আশা করছেন, রোজা শুরুর পর বাজার মনিটরিং জোরদার হলে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।
