কারিকুলাম পর্যালোচনা করে শিক্ষায় সংস্কার আনা হবে: মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৫:৩৬ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
কারিকুলাম পর্যালোচনার মাধ্যমে যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষায় হঠাৎ বড় পরিবর্তনের পরিবর্তে ধাপে ধাপে অগ্রগতি আনতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছালে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হবে। শিক্ষাকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এবং দক্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষা খাতের বরাদ্দ প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বর্তমানে বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় কম। আগে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে, তারপর বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য ও নিরাপত্তা খাতে গুরুত্ব দেওয়া স্বাভাবিক হলেও স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও শিক্ষা খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না পাওয়া হতাশাজনক। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষাবাজেট কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও কম বরাদ্দ রয়েছে। এতে স্পষ্ট যে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে শিক্ষা খাতকে যথাযথভাবে গুরুত্ব না দেওয়ায় জিডিপির অনুপাতে বরাদ্দ প্রায় দুই শতাংশের কাছাকাছি রয়ে গেছে। এটিকে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।
কারিকুলাম পরিবর্তন নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাঠ্যক্রম পরিবর্তন বাস্তবতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফেরানো ও মানোন্নয়নের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করাই সরকারের লক্ষ্য। এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে, যেখানে বাংলাদেশের শিক্ষা ও গবেষণাকে উন্নত দেশগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
