খোলা বাজারের ইফতার কতটা স্বাস্থ্যসম্মত
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৩:৩০ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার
ছবি: সংগ্রহিত।
রোজা ভাঙার মুহূর্তে খেজুর, শরবত আর গরম গরম ভাজাপোড়া—এই চেনা দৃশ্য এখন শহরের খোলাবাজার ও ফুটপাথের দোকানগুলোতে একেবারে রুটিন হয়ে গেছে। বিকেলের পর থেকেই সাজানো থাকে বেগুনি, আলুর চপ, পেঁয়াজু, হালিম, জিলাপি, ছোলা-মুড়ি আর নানা ধরনের শরবত। ব্যস্ত নগরজীবনে কম দামে দ্রুত ইফতারির সুবিধা পাওয়ায় অনেকেরই ভরসা খোলাবাজার। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই খোলাবাজারের ইফতারি আদৌ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?
খোলা আকাশের নিচে খাবার প্রস্তুত: বেশির ভাগ ফুটপাতের ইফতারির দোকানে খাবার তৈরি ও পরিবেশন হয় খোলা জায়গায়। পাশ দিয়ে চলে যানবাহন, উড়তে থাকে ধুলাবালি, বসে মাছি। অনেক ক্ষেত্রে খাবার ঢেকে রাখার ব্যবস্থা নেই। শরবতের পানি কোথা থেকে আনা হচ্ছে, বরফ কতটা বিশুদ্ধ—সেসব বিষয়ে ক্রেতাদের তেমন কোনো ধারণা থাকে না।
একই তেল, বারবার ব্যবহার: ভাজাপোড়ার দোকানগুলোতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি আসে তেল থেকে। দীর্ঘ সময় ধরে একই তেলে একের পর এক পেঁয়াজু, বেগুনি আর চপ ভাজা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিকবার ব্যবহৃত তেলে ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হয়, যা লিভার ও হৃদ্যন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়মিত এ ধরনের খাবার খেলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিক ও কোলেস্টেরলের সমস্যাও বাড়তে পারে।
শরবতের রঙে লুকানো ঝুঁকি: খোলাবাজারের শরবত দেখতে আকর্ষণীয়—লাল, কমলা বা সবুজ রঙের। তবে অনেক সময় এতে কৃত্রিম রং ও অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করা হয়। পরিষ্কার পানির বদলে অনিরাপদ উৎসের পানি বা অপরিশোধিত বরফ ব্যবহার হলে ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা থাকে।
ক্রেতারাও জানেন ঝুঁকির কথা: ইফতার কিনতে আসা অনেকেই বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা তারা জানেন। তবু কম দাম ও সহজলভ্যতার কারণে খোলাবাজারের ইফতারিই তাদের ভরসা। কেউ কেউ আবার বলেন, বাসায় ইফতার বানানোর সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়েই বাইরে থেকে কিনতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: পুষ্টিবিদদের মতে, রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ভারী ভাজাপোড়া দিয়ে ইফতার শুরু করলে হজমে সমস্যা হয়। তারা পরামর্শ দেন—
ইফতার শুরু করা উচিত পানি ও খেজুর দিয়ে
ভাজাপোড়া কমিয়ে ফলমূল, ছোলা, দই বা হালকা খাবার রাখা ভালো
বাইরে থেকে কিনলে পরিষ্কার ও ঢেকে রাখা খাবার বেছে নেওয়া উচিত
শরবতের ক্ষেত্রে বোতলজাত বা নিরাপদ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি
নজরদারির ঘাটতি: খাদ্য নিরাপত্তা আইন থাকলেও রমজান এলেই ফুটপাতজুড়ে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ইফতারির দোকানগুলোর ওপর তদারকি তুলনামূলক কম। ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অভিযানের খবর মাঝে মাঝে শোনা গেলেও তা নিয়মিত নয়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি জেনেও অনেক বিক্রেতা আগের মতোই খাবার তৈরি ও বিক্রি করে যাচ্ছেন।
সচেতনতার বিকল্প নেই: খোলাবাজারের ইফতারি পুরোপুরি এড়িয়ে চলা অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সচেতনতা বাড়ালে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। পরিষ্কার দোকান বেছে নেওয়া, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলা এবং ঘরে তৈরি খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হতে পারে নিরাপদ ইফতারের সহজ উপায়।
রমজানের ইফতার শুধু পেট ভরানোর আয়োজন নয়, এটি শরীর সুস্থ রাখারও সময়। তাই স্বাদের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যকেও গুরুত্ব না দিলে ইফতারের আনন্দই হয়ে উঠতে পারে অসুস্থতার কারণ।
