ঢাকার বাতাস ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’: দূষিতর তালিকায় তৃতীয়
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৩৬ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
প্রতীকী ছবি।
শীতের শেষভাগেও রাজধানীতে বায়ুদূষণের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ নেই। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার–এর সর্বশেষ তাৎক্ষণিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে ঢাকার বায়ুমান সূচক দাঁড়িয়েছে ২১৭, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিভুক্ত। এই মাত্রা সব বয়সী মানুষের জন্যই গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সংস্থাটির বৈশ্বিক তালিকায় একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। তালিকার শীর্ষে রয়েছে লাহোর (২২৬), দ্বিতীয় স্থানে দিল্লি (২২৫)। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইয়াঙ্গুন (২১০) ও দুবাই (১৮৭)।
ঢাকার বাতাসে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার ঘনত্ব ১৬৫ থেকে ১৭৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। তুলনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত দৈনিক নিরাপদ সীমা মাত্র ১৫ মাইক্রোগ্রাম। অর্থাৎ ক্ষতিকর কণার উপস্থিতি নিরাপদ মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার দূষণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। শিশুদের ফুসফুসের স্বাভাবিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
স্বাস্থ্য পরামর্শ
* ২০১ থেকে ৩০০ মাত্রার সূচক ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এ অবস্থায়—
* শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
* অন্যদেরও বাইরের কাজকর্ম সীমিত রাখা প্রয়োজন।
* বাইরে গেলে মানসম্মত সুরক্ষামাস্ক ব্যবহার করা দরকার।
* ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রেখে বাতাস পরিশোধনযন্ত্র চালু রাখা ভালো।
* খোলা জায়গায় ব্যায়াম বা কষ্টসাধ্য কাজ পরিহার করা উচিত।
দূষণের প্রধান কারণ
পরিবেশবিদদের মতে—
* শুষ্ক আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের অভাবে দূষণকণা বাতাসে জমে আছে।
* পুরোনো যানবাহনের ধোঁয়া পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।
* নির্মাণকাজের ধুলোবালি বড় ভূমিকা রাখছে।
* ইটভাটা ও শিল্পকারখানার কালো ধোঁয়া দূষণ বাড়াচ্ছে।
* খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানোও একটি বড় কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদি সতর্কতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। পুরোনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজে ধুলা রোধ, ইটভাটা আধুনিকায়ন এবং নগর সবুজায়ন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলে দূষণের মাত্রা দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীবাসী আপাতত ভারী দূষণের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন; স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যক্তিগত সতর্কতাই এখন প্রধান ভরসা।
