ঈদে রাজধানীর শপিংমলে বিদেশি পোশাকের প্রাধান্য
শাহ নেওয়াজ চৌধুরী
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৪৯ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বড় বড় শপিংমল ও ফ্যাশন মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষণীয় বেড়ে গেছে। বিশেষত বিদেশি ব্র্যান্ডের পোশাকের ওপর ক্রেতাদের আকর্ষণ অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
রাজধানীর গুলিস্তান, বনানী, মিরপুর, ধানমন্ডি ও উত্তরা এলাকার শপিংমলগুলোতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, র্যাকে সাজানো বিদেশি ব্র্যান্ডের বেনারসি সিল্ক, রেশমের শাড়ি, ডিজাইনার কুর্তা, শিশুর পোশাক ও আনুষাঙ্গিক পণ্য ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
সরাসরি দৃশ্যপট: ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, ঈদ শপিংয়ের জন্য আগত ক্রেতারা বিশেষভাবে বিদেশি ব্র্যান্ডের পোশাক খুঁজছেন। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী, যুবক ও যুবতীদের মধ্যে বিদেশি কটন, লিনেন ও ডিজাইনার ওয়েস্টার্ন এবং সেমি ট্র্যাডিশনাল পোশাকের চাহিদা বেশি।
এক দোকান কর্মচারি হাফিজ উদ্দিন জানান, “ঈদের মাসে আমাদের বিদেশি পোশাকের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। অনেক ক্রেতা বিদেশি ব্র্যান্ডকে বেশি পছন্দ করছেন, কারণ তারা বলে মান বেশি এবং ফ্যাশনেবল।”
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্রেতাদের মধ্যে বিদেশি পোশাক কেনার প্রবণতা বেড়ে গেছে।
নাসরিন সুলতানা নামে এক ক্রেতা বলেন, “ঈদে নিজেও নতুন পোশাক কিনব, পরিবারের জন্যও। বিদেশি পোশাক মানের দিক থেকে ভালো মনে হয়, আর ডিজাইনও আধুনিক।”
জেসমিন আরা পারভেজ নামে আরেক ক্রেতা জানান, “দেশীয় পোশাকও আছে, কিন্তু আজকাল সবাই বিদেশি ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও গুণগত মানে সন্তুষ্ট।”
শপিংমলের প্রস্তুতি: শপিংমলগুলো ঈদকে সামনে রেখে পোশাকের পাশাপাশি জুতা, ব্যাগ, গহনা ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিকের স্টক বাড়িয়েছে। শপিংমল প্রশাসন জানাচ্ছে, বিদেশি পণ্যের ডিমান্ড বেশি হওয়ায় তারা আগেভাগেই ইম্পোর্ট করে রেখেছেন।
এক শপিংমল পরিচালক বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে বিদেশি পোশাকের চাহিদা সবসময়ই বেশি। ক্রেতাদের পছন্দ ও বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে আমরা স্টক ও ডিসপ্লে প্রস্তুত করেছি।”
দেশীয় পোশাকের তুলনায় বিদেশি প্রাধান্য: সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দেশীয় পোশাকের বিক্রিও কম নয়, তবে ক্রেতাদের সংখ্যায় বিদেশি পোশাকের প্রাধান্য স্পষ্ট। বিশেষ করে ফ্যাশন সচেতন যুবকরা আধুনিক স্লিম ফিট কুর্তা, শার্ট-প্যান্ট ও ব্র্যান্ডেড স্যান্ডেল কিনতে বেশি আগ্রহী।
এক পোশাক বিক্রেতা বলেন, “দেশীয় পোশাকের চাহিদা আছে, কিন্তু বেশি ক্রেতা বিদেশি ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে কটন, সিল্ক এবং ডিজাইনার ওয়েস্টার্ন সব ধরনের পোশাক বিদেশি ব্র্যান্ডে বেশি বিক্রি হচ্ছে।”
মূল্য ও ক্রেতাদের অভিমত: বিদেশি পোশাকের দাম দেশীয় পোশাকের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে ক্রেতারা মান ও ফ্যাশনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। অনেকেই মনে করেন, ঈদের সময়ে কিছুটা বেশি খরচ করলেও মান এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের ক্রেতাদের জীবনধারা ও ফ্যাশন সচেতনতা বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, দেশীয় পোশাককে বিকল্প হিসেবে দেখা হলেও ক্রেতাদের সচেতনতা ও মানের কারণে বিদেশি পোশাকের প্রাধান্য বেড়ে গেছে।
ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর শপিংমলগুলোতে বিদেশি পোশাকের ক্রমবর্ধমান প্রাধান্য শুধু বাজারের প্রবণতা নয়—এটি ক্রেতার ফ্যাশন সচেতনতা ও মানদণ্ডকেও প্রতিফলিত করছে। তবে দেশীয় পোশাক ও শিল্পের সমর্থন নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্যও সুযোগ তৈরি হবে।
শপিংমল থেকে বেরোলে বোঝা যায়—ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন স্টাইল, আর নতুন আগ্রহ। আর সেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আজকাল বিদেশি ব্র্যান্ড।
