নারিন্দায় মধ্যরাতে ভয়াবহ এসি বিস্ফোরণ: একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:২০ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
প্রতীকী ছবি।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নারিন্দা এলাকার মৈশুন্ডিতে একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় (কিছু সূত্রে দ্বিতীয় তলা বলা হয়েছে) শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে যাওয়ায় তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।
দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে (ঢামেকের বার্ন ইউনিট) ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দগ্ধরা হলেন— মুক্তার বেপারী (৫৫), তার স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪৫) এবং ছেলে সেলিম বেপারী (৩৩)। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, মুক্তার বেপারীর শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ, সেলিনা বেগমের ৩০ শতাংশ এবং সেলিম বেপারীর শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে সেলিমের অবস্থা সবচেয়ে গুরুতর।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতায় পরিবারের সদস্যরা দগ্ধ হন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এসির কম্প্রেসার বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যা সাধারণত নিম্নমানের এসি, অতিরিক্ত লোড বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে হয়।
এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি, তবে দগ্ধদের চিকিৎসা চলছে। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছেন।
এ ধরনের বিস্ফোরণ প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন— নিয়মিত এসি পরীক্ষা করা, ভালো মানের যন্ত্র ব্যবহার করা এবং বৈদ্যুতিক লাইনের ওভারলোড এড়ানো।
