দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তবুও ঝুঁকি কাটেনি
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৯:১৭ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
প্রতীকী ছবি।
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় অল্পসংখ্যক নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে আবারও সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানী **ঢাকা**সহ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সহস্রাধিক হলেও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে।
রাজধানীতে নজরদারি জোরদার
ডেঙ্গুর সংক্রমণ কম থাকলেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ফগিং ও লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পানির ট্যাংক ও পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন,
“এখন সংক্রমণ কম থাকলেও এটি ভ্রান্ত নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।”
হাসপাতালে প্রস্তুতি
রাজধানীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভর্তি রোগীদের অধিকাংশই জ্বর, শরীর ব্যথা ও বমির উপসর্গ নিয়ে আসছেন। জটিল রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম।
ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন,
“রোগীরা এখন তুলনামূলক দ্রুত হাসপাতালে আসছেন। ফলে জটিলতা কম হচ্ছে। তবে অবহেলা করলে ঝুঁকি থেকেই যায়।”
জনসচেতনতার তাগিদ
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। সে জন্য বাসাবাড়ির আশপাশে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
টব, বালতি, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ারে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে
পানির ট্যাংক ঢেকে রাখতে হবে
দিনের বেলা মশা কামড়ায়, তাই ফুলহাতা জামা পরা উচিত
জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে
সার্বিক চিত্র
সব মিলিয়ে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্ষা মৌসুমের আগে মশার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংক্রমণ আবারও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
