ঈদে দেশীয় বুটিক হাউজগুলো ক্রেতা টানছে যে কারণে
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৭:১৩ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে রাজধানীর বুটিক হাউজগুলো। বড় শপিংমল ও ব্র্যান্ড শপের পাশাপাশি এবার দেশীয় বুটিক হাউজে ভিড় করছেন ক্রেতারা। হাতের কাজ, নকশার বৈচিত্র্য আর দেশীয় কাপড়ের ব্যবহার—সব মিলিয়ে বুটিক হাউজগুলো হয়ে উঠছে মধ্যবিত্ত ও তরুণদের পছন্দের কেনাকাটার জায়গা।
সরজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন বুটিক এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের নতুন কালেকশন সাজিয়ে বসেছে ছোট-বড় বুটিক হাউজগুলো। দোকানের ভেতরে সাজানো শাড়ি, থ্রি-পিস, কুর্তি ও পাঞ্জাবির রঙিন সম্ভার ক্রেতাদের থামিয়ে দিচ্ছে প্রতিটি শোকেসের সামনে।
কেন বুটিকের দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা
বুটিক মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ক্রেতারা ব্র্যান্ডের পোশাকের বদলে আলাদা ডিজাইনের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। হাতে আঁকা নকশা, ব্লক প্রিন্ট, নকশিকাঁথার কাজ ও জামদানি মোটিফ ব্যবহার করা পোশাকগুলো আলাদা নজর কাড়ছে।
ধানমন্ডির একটি বুটিক হাউজের স্বত্বাধিকারী রেহানা কবির বলেন, “ব্র্যান্ড শপে একই ডিজাইনের পোশাক অনেকজন পরে ফেলেন। কিন্তু বুটিকে আমরা সীমিত সংখ্যায় ডিজাইন করি। এতে ক্রেতারা আলাদা থাকতে পারেন। এই কারণেই এবার বুটিকের প্রতি আগ্রহ বেশি।”
তিনি আরও বলেন, “দেশীয় কাপড়ের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে—খাদি, টাঙ্গাইল কটন, জামদানি মোটিফ। এতে দাম তুলনামূলক সহনীয় রাখা যাচ্ছে।”
দাম তুলনামূলক সহনীয়
বুটিক হাউজগুলোতে ঈদের পোশাকের দাম সাধারণত ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে। যেখানে বড় ব্র্যান্ড শপে একই ধরনের পোশাকের দাম ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১৫-২০ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
মিরপুরের এক বুটিক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, “আমরা সরাসরি কারিগরদের কাছ থেকে কাপড় এনে ডিজাইন করি। মাঝখানে ব্র্যান্ডিং খরচ নেই, বড় শোরুম ভাড়া নেই। তাই দাম কম রাখা সম্ভব হয়।”
ক্রেতাদের মতামত: আলাদা আর আরামদায়ক
বুটিক হাউজে কেনাকাটা করতে আসা অনেক ক্রেতাই বলছেন, তারা এবার ভিন্ন কিছু চান। গুলশান এলাকার একটি বুটিক থেকে কেনাকাটা করা কলেজছাত্রী তানিয়া ইসলাম বলেন, “বুটিকের পোশাকে ইউনিক ডিজাইন পাওয়া যায়। একই জামা আরেকজনের গায়ে দেখার ভয় থাকে না। এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা।”
গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, “শাড়ি কিনতে এসেছি। বুটিকের শাড়িতে হাতের কাজ আর দেশীয় মোটিফ থাকে। ঈদের দিন পরলে আলাদা একটা ফিল আসে।”
নারী উদ্যোক্তাদের বড় ভূমিকা
দেশীয় বুটিক শিল্পে নারীদের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। অনেক নারী ঘরে বসেই অনলাইনে বুটিক ব্যবসা চালাচ্ছেন। তারা গ্রামের কারিগরদের সঙ্গে কাজ করে নতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করছেন।
একজন নারী উদ্যোক্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, “আমরা গ্রামের নারীদের দিয়ে হাতের কাজ করাই। এতে তাদের আয় হচ্ছে, আর আমাদের পোশাকে দেশীয় ঐতিহ্যের ছাপ থাকছে।”
অনলাইনেও বুটিকের রমরমা
শুধু শোরুম নয়, অনলাইনেও বুটিক হাউজগুলোর বিক্রি বেড়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে লাইভ বিক্রির মাধ্যমে অনেক বুটিক পোশাক বিক্রি করছে।
এক অনলাইন বুটিকের ব্যবস্থাপক বলেন,
“লাইভে পোশাক দেখিয়ে অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। এতে যারা বাইরে যেতে পারেন না, তারাও কেনাকাটা করতে পারছেন।”
শেষ মুহূর্তের দিকেই তাকিয়ে ব্যবসায়ীরা
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন ক্রেতারা দেখছেন, তুলনা করছেন। ঈদের কাছাকাছি সময় বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
ধানমন্ডির এক বুটিক ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, “বাজার পুরোপুরি জমবে ঈদের শেষ দশ দিনে। তখন পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে নামবেন সবাই।”
সার্বিক চিত্র
সব মিলিয়ে ঈদ বাজারে দেশীয় বুটিক হাউজগুলো ক্রেতা টানছে কয়েকটি কারণে—আলাদা ও সীমিত ডিজাইন, দেশীয় কাপড় ও হাতের কাজ, তুলনামূলক কম দাম, নারী উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অনলাইন বিক্রির সুযোগ।
এই সব উপাদান মিলিয়ে ঈদের কেনাকাটায় দেশীয় বুটিক হাউজ এখন বড় ব্র্যান্ড শপগুলোর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে।
