ঢাকা, রবিবার ০১, মার্চ ২০২৬ ১৪:৪১:০৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

খামেনি হত্যা: প্রতিশোধের অঙ্গীকার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১৩ এএম, ১ মার্চ ২০২৬ রবিবার

খামেনি হত্যা: প্রতিশোধের অঙ্গীকার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের

খামেনি হত্যা: প্রতিশোধের অঙ্গীকার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার জন্য শোকাহত। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে আমাদের মহান নেতার শাহাদাৎ প্রমাণ করে যে, তার নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম তাদের জন্য আতঙ্কজনক ছিল।”

আইআরজিসি আরও জানায়, “যাদের হাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন—তাদের এই জাতি ছাড়বে না। ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং আমরা দেশি-বিদেশি যে কোনো ষড়যন্ত্র-কে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।”

গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলার পরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু জানিয়ে দেন খামেনি নিহত হয়েছেন। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

আজ রোববার (১ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকালে ইরানের সরকারিভাবে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করে। ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের প্রশাসন পরিচালিত হতো।

ইরানের ইতিহাসে খামেনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অতি গভীর। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন শাহ মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে উৎখাত করে ইরানে জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

এই ঘটনার পর ইরান নতুনভাবে শক্তিশালী প্রতিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা