ঢাকা, রবিবার ০১, মার্চ ২০২৬ ১৮:০৮:০৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বসুন্ধরা সিটিতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

অনু সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৫৪ পিএম, ১ মার্চ ২০২৬ রবিবার

বসুন্ধরা সিটিতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

বসুন্ধরা সিটিতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

ঢাকার অন্যতম বৃহৎ শপিংমল বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স-এ ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছে কেনাকাটা। সকাল থেকেই বিভিন্ন তলায় দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা ক্রেতাদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পোশাক, জুতা, কসমেটিকস ও শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতার চাপ বেশি।

বিক্রি বেড়েছে, তবে হিসাব এখনো মিশ্র: দোকানিরা বলছেন, রোজার শুরুতে বিক্রি কিছুটা ধীর ছিল। তবে মাঝামাঝি সময় থেকে ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে।

দ্বিতীয় তলার একটি পুরুষ পোশাকের দোকানের ব্যবস্থাপক রাশেদ মাহমুদ বলেন, “শুরুর দিকে মানুষ দেখেশুনে কিনছিল। এখন ভিড় বাড়ছে, বিক্রিও ভালো হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বিক্রি প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ বেড়েছে।”

তৃতীয় তলার একটি নারী পোশাকের দোকানের বিক্রয়কর্মী শারমিন আক্তার জানান, “লেডিস ড্রেসে সবচেয়ে বেশি চাহিদা কুর্তি, থ্রি-পিস আর লং ড্রেসের। দাম একটু বেশি হলেও ঈদের জন্য মানুষ কিনছে। বিক্রি মোটামুটি ভালো।”

তবে সব দোকানে একই চিত্র নয়। একটি শিশু পোশাকের দোকানের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ভিড় আছে, কিন্তু আগের বছরের মতো বিক্রি হচ্ছে না। মানুষ দরদাম করছে বেশি, বাজেট বুঝে কিনছে।”

ক্রেতাদের পছন্দ ও বাজেট: ক্রেতারা বলছেন, বাজারদর বেশি হওয়ায় আগের তুলনায় কেনাকাটায় হিসাব-নিকাশ বেশি করতে হচ্ছে।

মিরপুর থেকে আসা গৃহিণী নাসরিন জাহান বলেন, “পরিবারের জন্য কাপড় কিনতে এসেছি। সবকিছুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। তবু ঈদ তো বছরে একবার আসে, তাই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনছি।”

একজন তরুণ ক্রেতা তানভীর হাসান বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি। শার্ট আর জুতা কিনলাম। ডিসকাউন্ট থাকায় কিছুটা সাশ্রয় হয়েছে। ভিড় অনেক, তবু পছন্দের জিনিস পাওয়া যাচ্ছে।”

নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা: শপিংমল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের মৌসুমে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রবেশপথে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রস্তুত রয়েছে।

একজন নিরাপত্তাকর্মী বলেন, “ভিড় বেশি হলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আলাদা গেট ব্যবহার করা হচ্ছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।”

শেষ মুহূর্তে আরও বাড়বে ভিড়: ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ ৫-৭ দিনে বিক্রি আরও বাড়বে। বিশেষ করে বেতন-বোনাস পাওয়ার পর মানুষ বেশি কেনাকাটায় নামবে।

একজন দোকানি বলেন, “এখন যা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে শেষ দিকে ভালো বিক্রি হবে। ঈদের দুই-তিন দিন আগে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে।”

সব মিলিয়ে, বসুন্ধরা সিটিতে ঈদের কেনাকাটা ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে। ভিড় ও বিক্রি—দুটোই বাড়ছে ধীরে ধীরে। ক্রেতারা প্রয়োজন ও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাক কিনছেন, আর বিক্রেতারা আশায় আছেন শেষ মুহূর্তের বেচাকেনায় ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার।