ঢাকা, মঙ্গলবার ০৩, মার্চ ২০২৬ ৬:৪৪:৩০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কুয়েতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৩১ পিএম, ২ মার্চ ২০২৬ সোমবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা এখন যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টায় কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন মিত্রদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কুয়েতে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির আকাশসীমায় বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল বিমান লেজে আগুন লাগা অবস্থায় ঘুরতে ঘুরতে মাটিতে আছড়ে পড়ছে। তবে বিমানের পাইলট ও ক্রু সদস্যরা নিরাপদে বের হয়ে আসতে পেরেছেন এবং তারা সুস্থ আছেন। ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটিতে ১৫টি ক্রুজ মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়ে অন্তত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।

এদিকে, সউদী আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুটি ড্রোন আঘাত হানার চেষ্টা করলে সেগুলো প্রতিহত করা হয়, তবে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে স্থাপনাটিতে সীমিত আকারে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো এই শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামার সালমান বন্দরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিট অবস্থিত। 

অন্যদিকে, কাতারের রাজধানী দোহাতেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বলে জানা গেছে। 

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, গত তিন দিনে ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলায় অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে এ পর্যন্ত ১,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান তার সামরিক কৌশল পরিবর্তন করে এখন মার্কিন মিত্রদের 'সফট টার্গেট' বা বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানছে। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, তাদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলোকেও তার মাশুল গুনতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

সূত্র: আল-জাজিরা।