সপ্তম দিনে বইমেলা: ভিড় বাড়লেও বিক্রি নেই, ক্রেতার খোঁজে প্রকাশকরা
জোসেফ সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৭:০৭ পিএম, ৪ মার্চ ২০২৬ বুধবার
ছবি: সংগ্রহিত।
অমর একুশে বইমেলার সপ্তম দিনেও সকাল থেকে স্টল খোলা থাকলেও দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। বিকেলের পর ধীরে ধীরে মেলার গতি বাড়ে। শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও কাঙ্ক্ষিত বই বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছেন একাধিক প্রকাশক।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক স্টলেই বইয়ের সাজানো স্তূপ থাকলেও ক্রেতা নেই। কোথাও কোথাও তরুণদের দল বই হাতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে, কেউ কেউ লেখকের খোঁজে স্টল ঘুরছেন।
নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
আজ মেলায় বেশ কয়েকটি নতুন বই এসেছে। কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও গবেষণাধর্মী বইয়ের পাশাপাশি শিশুতোষ বইয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রকাশকরা বলছেন, সপ্তাহের মাঝামাঝি দিন হওয়ায় পাঠকের আনাগোনা কিছুটা কম।
একজন প্রকাশক জানান, “সকালে তো একদমই লোক ছিল না। বিকেলের পর কিছুটা ভিড় হয়েছে। তবে বিক্রি খুব বেশি বলা যাবে না।”
পাঠকের অভিজ্ঞতা
মেলায় আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত বলেন, “প্রিয় লেখকের নতুন বই কিনতে এসেছি। কিন্তু দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। তাই বেছে বেছে নিচ্ছি।”
একজন অভিভাবক বলেন, “বাচ্চাদের জন্য গল্পের বই দেখতে এসেছি। পরিবেশটা ভালো লাগছে, কিন্তু বইয়ের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে।”
লেখকদের উপস্থিতি
বিকেলের দিকে কয়েকজন জনপ্রিয় লেখক স্টলে বসে পাঠকের সঙ্গে কথা বলেন ও বইয়ে অটোগ্রাফ দেন। এতে কিছু স্টলে বাড়তি ভিড় দেখা যায়। বিশেষ করে কবিতা ও তরুণ লেখকদের বইয়ের স্টলগুলোতে তরুণদের উপস্থিতি বেশি ছিল।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা
মেলার ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রবেশপথে ব্যাগ তল্লাশি ও পুলিশের টহল অব্যাহত ছিল। তবে খাবারের দোকান এলাকায় ভিড়ের কারণে কিছু সময় হাঁটাচলায় বিঘ্ন ঘটে।
সার্বিক চিত্র
সপ্তম দিনে বইমেলা ছিল মাঝারি ভিড়ের। পাঠকের আগ্রহ থাকলেও বিক্রি আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা। তারা আশা করছেন, ছুটির দিনগুলোতে মেলায় ভিড় ও বিক্রি—দুটোই বাড়বে।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বইমেলা এখনো পাঠক-লেখক-প্রকাশকের মিলনমেলা হলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেকেই বই কিনতে গিয়ে হিসাব কষে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
