ধানমন্ডিতে ইফতার বাজার: ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়
জোসেফ সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৫:১৮ পিএম, ৫ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
পবিত্র রমজান মাসে বিকেলের শেষভাগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যেমন জমে ওঠে ইফতার বাজার, তেমনি প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে ধানমন্ডি এলাকার অলিগলি ও প্রধান সড়কঘেঁষা খাবারের দোকানগুলো। রোজাদারদের জন্য নানা রকম মুখরোচক ইফতারি নিয়ে সাজানো দোকানগুলোতে বিকেল গড়াতেই বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়। ভাজা-পোড়ার ঘ্রাণ, দোকানিদের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের দরকষাকষিতে পুরো এলাকা যেন এক উৎসবমুখর আবহে পরিণত হয়।
সরজমিনে ধানমন্ডির সড়ক ও আশপাশের বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকেই একে একে ইফতারির পসরা সাজাতে শুরু করেন বিক্রেতারা। বড় বড় ট্রেতে সাজানো বেগুনি, পিয়াজু, আলুর চপ, ডালপুরি, হালিম, চিকেন রোল, জিলাপি, ছোলা-মুড়ি, খেজুর, শরবতসহ নানা রকম খাবার। কোথাও কাবাবের ধোঁয়া উড়ছে, আবার কোথাও বড় কড়াইয়ে টগবগ করে ভাজা হচ্ছে বেগুনি ও পিয়াজু।
ধানমন্ডি ১৫ নম্বর সড়কের এক ইফতার বিক্রেতা মো. হাবিব বলেন, “রমজান এলেই আমাদের ব্যবসা অনেক বেড়ে যায়। প্রতিদিন বিকেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেশিরভাগ খাবার বিক্রি হয়ে যায়। ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় প্রতিদিন নতুন করে বেশি করে প্রস্তুতি নিতে হয়।”
একই এলাকার আরেক বিক্রেতা নাসির উদ্দিন জানান, ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। “সন্ধ্যার আধা ঘণ্টা আগে তো হাত-পা গুটিয়ে বসার সুযোগ নেই। সবাই তখন দ্রুত ইফতারি কিনে বাড়ি ফিরতে চান,” বলেন তিনি।
শুধু আশপাশের বাসিন্দারাই নন, অফিস শেষে অনেক কর্মজীবী মানুষও ধানমন্ডির এই ইফতার বাজারে ভিড় করেন। কেউ পরিবারের জন্য ইফতারি কিনে নিচ্ছেন, আবার কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বসে রাস্তার পাশেই ইফতার করছেন।
ধানমন্ডির এক বাসিন্দা রুবাইয়া রহমান বলেন, “বাসায় সব সময় ইফতার বানানোর সময় হয় না। তাই মাঝে মাঝে এখান থেকে পিয়াজু, বেগুনি আর জিলাপি কিনে নিয়ে যাই। এখানে অনেক ধরনের খাবার পাওয়া যায়।”
আরেক ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, “অফিস শেষ করে বাসায় যেতে যেতে ইফতারের সময় হয়ে যায়। তাই অনেক দিন এখান থেকেই ইফতারি নিয়ে যাই। দাম একটু বেশি হলেও স্বাদের জন্য অনেকেই এখানে আসেন।”
তবে ইফতার বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা বেড়েছে খাবারের দামও। বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচামালের দাম বাড়ায় ইফতারির দামও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। বর্তমানে একটি বেগুনি ১০ থেকে ১৫ টাকা, পিয়াজু ১০ থেকে ১২ টাকা, আলুর চপ ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং হালিমের একটি ছোট বাটি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য সচেতন অনেক ক্রেতা খোলাবাজারের খাবারের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে বিক্রেতারা দাবি করছেন, ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে তারা যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে খাবার প্রস্তুত করার চেষ্টা করছেন।
বিকেলের দিকে ধানমন্ডির ফুটপাতজুড়ে সারি সারি অস্থায়ী দোকান বসে। রঙিন আলো, বড় বড় কড়াই, ধোঁয়া ওঠা ভাজাপোড়া—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত পরিবেশ। ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে ক্রেতাদের ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে অনেক সময় রাস্তায় যান চলাচলেও ধীরগতি দেখা যায়।
বিক্রেতারা জানান, রমজানের এই সময়টিই তাদের বছরের সবচেয়ে বড় ব্যবসার মৌসুম। তাই সকাল থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। দুপুরের পর থেকেই রান্না ও ভাজার কাজ শুরু হয়, যাতে বিকেলের আগেই সবকিছু প্রস্তুত থাকে।
সব মিলিয়ে ধানমন্ডির ইফতার বাজার শুধু খাবার কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং রমজানের বিশেষ আবহ ও সামাজিক মিলনমেলারও এক প্রাণবন্ত কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিকেলে সেখানে জমে ওঠা ভিড় যেন জানান দেয়—ইফতার শুধু খাবারের নয়, এটি আনন্দ, ভাগাভাগি আর একসঙ্গে থাকারও এক বিশেষ উপলক্ষ।
