এলিফ্যান্ট রোডে ঈদে জমজমাট জুতার কেনাকাটা
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৭:৩৭ পিএম, ৫ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে যখন কেনাকাটার ভিড় বাড়ছে, তখন জুতার জন্য ক্রেতাদের অন্যতম ভরসার স্থান হয়ে উঠেছে এলিফ্যান্ট রোড। বিকেল গড়াতেই সড়কের দুই পাশে জুতার দোকানগুলোতে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা কিনতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দোকান ঘুরে দেখছেন ক্রেতারা।
সরজমিনে এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে দোকানগুলোতে সাজানো হয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের জুতা, স্যান্ডেল ও স্যান্ডেলজাতীয় পাদুকা। পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা আলাদা ডিজাইনের জুতা সাজিয়ে রাখা হয়েছে শোকেসে। কেউ পাঞ্জাবির সঙ্গে মানানসই স্যান্ডেল খুঁজছেন, আবার কেউ শাড়ি বা থ্রি-পিসের সঙ্গে মিলিয়ে হাই হিল বা ফ্যাশনেবল জুতা বেছে নিচ্ছেন।
এলিফ্যান্ট রোডের একটি জুতার দোকানের বিক্রেতা মো. আল আমিন বলেন, “ঈদের আগে এই সময়টাতে ক্রেতার চাপ অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে ইফতারের পর দোকানে ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রাত পর্যন্ত টানা বিক্রি হয়।”
তিনি জানান, বর্তমানে পুরুষদের স্যান্ডেল ও লোফার জুতার চাহিদা বেশি। নারীদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের হিল, স্যান্ডেল ও ফ্যাশনেবল জুতা বেশি বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের জুতার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা রঙ ও ডিজাইনের সমাহার।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের পোশাক কেনার পর এখন জুতার দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন অনেকে। ধানমন্ডি থেকে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, “পাঞ্জাবি কিনেছি আগেই। এখন তার সঙ্গে মানানসই একটা ভালো স্যান্ডেল খুঁজছি। এলিফ্যান্ট রোডে বিভিন্ন ধরনের জুতা পাওয়া যায়, তাই এখানে এসেছি।”
আরেক ক্রেতা রাফিয়া সুলতানা বলেন, “ঈদের সময় নতুন জুতা না হলে যেন সাজটাই অসম্পূর্ণ লাগে। এখানে অনেক দোকান একসঙ্গে থাকায় তুলনা করে কেনা যায়।”
দোকানিরা জানান, ঈদের আগে শেষ দশ দিনই তাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। তখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় থাকে। অনেক দোকানে বাড়তি কর্মচারীও রাখা হয়েছে ক্রেতাদের চাপ সামলাতে।
তবে কিছু ক্রেতা জুতার দাম তুলনামূলক বেশি বলে অভিযোগ করেছেন। বিক্রেতারা বলছেন, আমদানি খরচ ও কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে জুতার দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে পুরুষদের স্যান্ডেল ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে এবং নারীদের ফ্যাশনেবল জুতা ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সন্ধ্যার পর এলিফ্যান্ট রোডের পুরো এলাকায় যেন উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। রঙিন আলোর ঝলকানি, দোকানিদের ব্যস্ততা আর ক্রেতাদের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সড়ক। পরিবারের সবাইকে নিয়ে অনেকে কেনাকাটা করছেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে পছন্দের জুতা খুঁজছেন।
সব মিলিয়ে ঈদকে সামনে রেখে এলিফ্যান্ট রোড এখন জুতার কেনাকাটার এক জমজমাট কেন্দ্র। নতুন জুতার খোঁজে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন শত শত ক্রেতা, আর বিক্রেতারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন বছরের সবচেয়ে বড় এই বিক্রির মৌসুমে।
