৮ মার্চ নারী দিবস: ইতিহাস, প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৫৫ এএম, ৮ মার্চ ২০২৬ রবিবার
প্রতীকী ছবি।
আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচি ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। নারীর অধিকার, সমতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেই দিবসটির গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তবে কীভাবে এই দিবসের সূচনা, কেনই বা ৮ মার্চ দিনটি বেছে নেওয়া হলো—এসব বিষয় অনেকেরই অজানা।
দিবসটির সূচনার পেছনের ইতিহাস:
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস মূলত শ্রমজীবী নারীদের অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি পোশাক কারখানায় নারী শ্রমিকরা কাজের পরিবেশ উন্নয়ন, মজুরি বৃদ্ধি এবং ভোটাধিকারসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করেন। ওই আন্দোলনে তারা পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন।
পরবর্তীতে শ্রমজীবী নারীদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত হতে থাকে।
১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাঁর প্রস্তাব সমর্থন করেন।
প্রথম নারী দিবস পালন:
১৯১১ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপের কয়েকটি দেশে বেসরকারিভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। এরপর ধীরে ধীরে দিনটির গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হতে থাকলেও জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৫ সালে। এরপর থেকে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দিনটি পালন করে আসছে।
কেন ৮ মার্চ:
শুরুতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নির্ধারিত ছিল না। পরে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের সময় নারীদের একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের কারণে ৮ মার্চ দিনটি নির্ধারিত হয়।
সে সময় রাশিয়ায় নারীরা “রুটি ও শান্তি”র দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেন। এই আন্দোলনের কয়েক দিনের মধ্যেই জারের পতন ঘটে এবং নতুন সরকার নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করে।
তখন রাশিয়ায় প্রচলিত জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ধর্মঘট শুরু হয়েছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সেটি ছিল ৮ মার্চ। পরবর্তীতে এই দিনটিকেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
নারী দিবসের প্রতীকী রং:
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতীকী রং হিসেবে সাধারণত তিনটি রং ব্যবহৃত হয়—বেগুনি, সবুজ ও সাদা।
বেগুনি- ন্যায়বিচার ও মর্যাদার প্রতীক
সবুজ- আশার প্রতীক
সাদা- শুদ্ধতার প্রতীক
এই রংগুলোর ব্যবহার প্রথম জনপ্রিয় করে যুক্তরাজ্যের নারী ভোটাধিকার আন্দোলনের সংগঠন উইমেনস সোশ্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল ইউনিয়ন।
বাংলাদেশে নারী দিবস:
জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশেও প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশে শিক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। তবে এখনও নারীরা নানা ধরনের সামাজিক, পারিবারিক ও কাঠামোগত বৈষম্যের মুখোমুখি হন। বাল্যবিবাহ, যৌতুক, সহিংসতা ও কুসংস্কার নারীর অগ্রগতির পথে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক নারী দিবস সেই সচেতনতা ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেই প্রতি বছর নতুন করে গুরুত্ব পায়।
