ঢাকা, মঙ্গলবার ১০, মার্চ ২০২৬ ১৯:৫৫:৩১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ফুলে সাজানো মহাসড়ক, থমকে যায় পথচলা

রাতুল মাঝি

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:২৭ এএম, ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক সাধারণত পরিচিত যানবাহনের অবিরাম কোলাহল আর দ্রুতগতির পথচলার জন্য। তবে গাজীপুরের কিছু অংশে এই ব্যস্ত সড়ক এখন নতুন এক পরিচয় পেয়েছে। মহাসড়কের মাঝখানের বিভাজকজুড়ে ফুটে থাকা নানা রঙের ফুল আর সবুজ গাছপালা পথচলতি মানুষের চোখে এনে দিয়েছে অন্যরকম প্রশান্তি। ফলে এই পথ এখন অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে এক আকর্ষণীয় দৃশ্যপট।

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর থেকে শুরু করে চান্দনা চৌরাস্তা, শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা, গড়গড়িয়া নতুন বাজার, মাস্টারবাড়ি ও নয়নপুর জৈনাবাজার পর্যন্ত মহাসড়কের ডিভাইডারজুড়ে দেখা যায় ফুল ও গাছের বর্ণিল সমারোহ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া যাত্রীদের কাছে এই দৃশ্য যেন ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় মুহূর্তেই।

দিনের ভিন্ন সময়ে মহাসড়কের এই সৌন্দর্য ধরা দেয় ভিন্ন ভিন্ন রূপে। দুপুরের উজ্জ্বল রোদে ফুলের রঙ আরও ঝলমলে হয়ে ওঠে, বিকেলের নরম আলোয় চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে শান্ত এক আবহ, আর রাতের নীরবতায়ও সবুজে ঘেরা ডিভাইডার যেন নিঃশব্দে জানান দেয় প্রকৃতির উপস্থিতি।

সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দনা চৌরাস্তা অতিক্রম করলেই দুই পাশে চোখে পড়ে ভাওয়ালের ঐতিহ্যবাহী শাল–গজারি বন। মাঝেমধ্যে শিল্পকারখানার উপস্থিতি থাকলেও মহাসড়কের মাঝখানে লাগানো ফুলগাছ ও বৃক্ষ পুরো পরিবেশে এনে দিয়েছে আলাদা এক প্রাণবন্ততা। লালচে, গোলাপি ও সাদা ফুলের সারি দূর থেকেই নজর কাড়ে।

এই মনোরম দৃশ্য দেখতে অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন। কেউ আবার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচলকারী অনেক যাত্রীকেও জানালা দিয়ে এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ ও বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। প্রায় ১৩ ফুট প্রশস্ত ডিভাইডারের কোথাও এক সারি, আবার কোথাও তিন সারিতে গাছ লাগানো হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে নীল কাঞ্চন, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, জোড়া টগর, রাধাচূড়া, অগ্নিশ্বর, পলাশ, গৌরীচূড়া, কনকচূড়া, কনকচাঁপা, কদম, কাঠবাদাম, জারুল ও রক্তকরবীসহ নানা প্রজাতি। ফলে ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে সড়কের দৃশ্যপটও বদলে যায়।

শ্রীপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী সুমন মিয়া বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ফুলের ভিডিও দেখেছিলাম। তাই বন্ধুর সঙ্গে দেখতে এসেছি। বাস্তবে এসে দেখলাম, জায়গাটা সত্যিই অনেক সুন্দর।”

আরেক দর্শনার্থী বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে যেন বিদেশের কোনো সড়ক। এত সুন্দর ফুলের সারি আমাদের দেশে খুব একটা দেখা যায় না।”

তবে এই সৌন্দর্য দেখতে এসে অনেকেই ঝুঁকি নিচ্ছেন। কেউ ডিভাইডারের ওপর উঠে ছবি তুলছেন, কেউ আবার মহাসড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছেন। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ ছাড়া কিছু অসচেতন মানুষ ফুল তুলতে গিয়ে গাছের ডাল ভেঙে ফেলছেন, যা গাছের ক্ষতি করছে এবং নষ্ট করছে এই নান্দনিক পরিবেশ।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ তারিক হাসান বলেন, মহাসড়ককে আরও দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যেই ডিভাইডারে কয়েক হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে এগুলোর সৌন্দর্য ধরে রাখা হচ্ছে।

নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, মহাসড়কের বিভাজকে এ ধরনের সবুজায়ন শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশের জন্যও উপকারী। গাছপালা বায়ুদূষণ কমাতে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পরিবেশবিদদের মতে, মহাসড়কের মাঝখানে গাছপালা থাকলে এক লেনের গাড়ির হেডলাইটের আলো সরাসরি বিপরীত লেনের চালকের চোখে পড়ে না। পাশাপাশি ধুলাবালি ও শব্দদূষণ কমাতেও এগুলোর ভূমিকা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ব্যস্ত ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের এই অংশ এখন যেন প্রকৃতির এক রঙিন করিডোরে পরিণত হয়েছে। তবে এই সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।