ঢাকা, বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ ৪:০১:২৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

শেষের পথে বইমেলা, ১৩তম দিনেও পাঠকের ভিড় কম

রাতুল মাঝি

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:০৯ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

শেষের দিকে চলে এলেও জমে ওঠেনি অমর একুশে বইমেলা। আজ মঙ্গলবার মেলার ১৩তম দিনেও দেখা গেল পাঠকের উপস্থিতি কম। বিকেলের পর কিছুটা ভিড় বাড়লেও সেটিকে প্রত্যাশিত বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা।

একুশে বইমেলার ১৩তম দিনে আজ মঙ্গলবার নতুন বই এসেছে ১৪৬টি। মেলা চলছে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। 

আজ মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, স্টলগুলোতে ক্রেতা-পাঠকের আনাগোনা সীমিত। অনেক স্টলেই বিক্রেতারা বসে আছেন ক্রেতার অপেক্ষায়। মাঝে মধ্যে দু–একজন পাঠক বই দেখছেন, কেউ কেউ কিনছেনও; তবে সামগ্রিকভাবে বিক্রি আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি প্রকাশনা সংস্থার বিক্রেতা মাহবুব হাসান বলেন, “মেলার শেষ দিকে এসে সাধারণত ভিড় বাড়ে। কিন্তু এবার এখনো তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রি অনেকটাই কম।”

আরেক প্রকাশক সাইফুল ইসলাম বলেন, “বইমেলা মানেই এক সময় ছিল পাঠকের ঢল। এখন মানুষ আসে ঠিকই, কিন্তু অনেকেই ঘুরে দেখে চলে যায়। বই কেনার প্রবণতা কমে গেছে।”

মেলায় ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার বলেন, “বইমেলায় আসতে ভালো লাগে। তবে বইয়ের দাম একটু বেশি মনে হয়। তাই খুব বেছে বেছে কিনতে হয়।”

অনেক প্রকাশকের মতে, চলমান অর্থনৈতিক চাপ, যানজট এবং মানুষের ব্যস্ততার কারণে মেলায় প্রত্যাশিত ভিড় দেখা যাচ্ছে না। তবু শেষের দিনগুলোতে পাঠকের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

মেলা সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলে বইমেলার কার্যক্রম। এর পাশাপাশি মেলার মূলমঞ্চে প্রতিদিন আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও থাকছে।

তবে বইপ্রেমীদের প্রত্যাশা, শেষের দিনগুলোতে পাঠকের উপস্থিতি বাড়লে মেলার পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

এদিকে 

বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন হরিশংকর জলদাস।

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের পঠন-পাঠন ও জ্ঞানের পরিধি ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। তার লেখার ভঙ্গিও ছিল খুব অন্তরঙ্গ, যে কারণে প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। প্রবন্ধের প্রচলিত কাঠামো ভেঙে তিনি তৈরি করেছিলেন নতুন এক গদ্যভঙ্গি। সমালোচনা-সাহিত্য ও প্রবন্ধ-সাহিত্যকে তিনি সবসময় উঁচু মর্যাদার আসনে রেখেছেন। জীবনভর তিনি নানা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন।

আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেন, প্রবন্ধ ছাড়াও ছোটোগল্প লিখতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তার সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ বিকশিত রূপটি ধরা পড়েছিল গল্প রচনার সময়। তার গল্প ছিল বৈচিত্র্যময়, অভিনব এবং কখনো কখনো অকল্পনীয়। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন একই সঙ্গে শিল্পী এবং ব্যক্তিমানুষ হিসেবে দরদি।

আহমাদ মোস্তফা কামাল আরও বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের একটি বড় গুণ হলো—তিনি মানুষের ভালো কাজের অকুণ্ঠ প্রশংসা করতে পারতেন। শিক্ষক হিসেবেও তিনি সবসময় সবার প্রতি সমান মনোযোগ ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন। লেখক হিসেবে যেমন, তেমনি শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে এবং সর্বোপরি ব্যক্তিমানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অনেক উচ্চস্থানীয়।

হরিশংকর জলদাস বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন ধীশক্তিসম্পন্ন অমায়িক একজন মানুষ। উপন্যাস, ছোটোগল্প, প্রবন্ধ ও নানা তাত্ত্বিক বিষয়ে ছিল তার লেখালেখি। তার উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মানুষ এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক। তার সমগ্র কথা-সাহিত্যে সমাজের ও মানুষের দ্বান্দ্বিকতার নানা বিষয় উঠে এসেছে।

খালিকুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক, সাহিত্যিক ও তাত্ত্বিক। তিনি অসাধারণ চিত্র-সমালোচকও ছিলেন। বহুমাত্রিক চিন্তা ও কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি শ্রেণিকক্ষে এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীদের আলোকিত করেছেন, তাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক ইসরাইল খান এবং কবি ও সাংবাদিক মুহাম্মদ আবদুল বাতেন।

বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯ টা পর্যন্ত।

বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে আয়োজন থাকবে স্মরণ : এম শমসের আলী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেবেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সভাপতিত্ব করবেন আরশাদ মোমেন। বিকেল ৪ টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।