ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২, মার্চ ২০২৬ ৪:৩১:৩২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মেক্সিকো সৈকতে ‘ডুমসডে ফিশ’, বিপর্যয়ের আশঙ্কা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:১৬ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

পর্যটকদের তোলা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেক্সিকোর একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের সৈকতে সম্প্রতি দেখা মিলেছে এক বিরল সামুদ্রিক প্রাণীর, যা স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।এটি অত্যন্ত বিরল এক প্রজাতির মাছ, যাকে অনেকেই ‘ডুমসডে ফিশ’ বা ‘ওয়ার ফিশ’ নামে চেনেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মেক্সিকোর বিখ্যাত সমুদ্রতীর কাবো সান লুকাস–এ। সেখানে বেড়াতে গিয়ে দুই বোন হঠাৎ দূরে সমুদ্রতীরে কিছু একটা অদ্ভুত জিনিস দেখতে পান। দূর থেকে সেটি ফিতার মতো লম্বা এবং চকচকে মনে হচ্ছিল। বিষয়টি তাদের কৌতূহলী করে তোলে। তাই তারা দ্রুত ওই জায়গার দিকে এগিয়ে যান।

কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, ফিতার মতো লম্বা দুটো মাছের মতো প্রাণী পাশাপাশি পড়ে আছে। এত লম্বা এবং অদ্ভুত আকৃতির মাছ তারা আগে কখনো দেখেননি। তাদের একজন, মনিকা পিটেনজার, ঘটনাটি মোবাইলে ছবি ও ভিডিও করে রাখেন।

পরে তিনি সেই ভিডিওটি ‘উই লাভ অ্যানিমেলস’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যৌথভাবে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। ভিডিওটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাছটি আসলে 'ওরফিস', যাকে অনেক সময় ‘ডুমসডে ফিশ’ নামেও ডাকা হয়। এটি পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ সামুদ্রিক মাছের একটি প্রজাতি। সাধারণত এরা সমুদ্রের প্রায় তিন হাজার ফুট বা তারও বেশি গভীর জলে বাস করে। এত গভীরে থাকার কারণে মানুষের চোখে খুব কমই পড়ে এই প্রাণীটি। অগভীর পানিতে উঠে এলে বেশিরভাগ সময়ই তারা বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারে না।

মনিকা পিটেনজার বলেন, মাছটি দূর থেকেই অস্বাভাবিকভাবে জ্বলজ্বল করছিল। তার ভাষায়, “এটা সত্যিই খুব উজ্জ্বল ছিল। আমরা যখন কাছে গিয়ে দেখি, বুঝতে পারি—এমন কিছু আমরা আগে কখনো দেখিনি। তখন মনে হচ্ছিল বিষয়টি যেন অবিশ্বাস্য।”

তিনি আরও জানান, মাছ দুটিকে আবার সমুদ্রে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন তারা। মনিকার বোন প্রাণীদের কষ্ট সহ্য করতে পারেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য অনেক মানুষও মাছ দুটো দেখতে জড়ো হয়েছিলেন। পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে মনিকা বলেন, তার বোন তখন নিজের ফোন, ব্যাগ ও চশমা তার হাতে দিয়ে মাছগুলোকে সমুদ্রে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেখানে উপস্থিত অনেকেই বুঝতে পারছিলেন না প্রাণীগুলো আসলে কী, তাই তারা দ্বিধায় ছিলেন।

ওয়ারফিশ সাধারণত সামুদ্রিক ক্রিলসহ ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। যেহেতু এদের আবাসস্থল গভীর সমুদ্রের তলদেশ, তাই সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছে এদের দেখা পাওয়া খুবই বিরল ঘটনা।

এই বিরলতার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে কিছু সংস্কৃতিতে বিশ্বাস রয়েছে—যখন এই মাছ সমুদ্রপৃষ্ঠে ভেসে ওঠে, তখন তা নাকি বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস হতে পারে। অনেকেই এটিকে ভূমিকম্প বা সুনামির সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের বিশ্বাসের পক্ষে এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, গভীর সমুদ্রের কোনো মাছ অসুস্থতা, পানির তাপমাত্রার পরিবর্তন বা অন্য পরিবেশগত কারণে উপরের দিকে উঠে আসতে পারে।

মেক্সিকোর ওই সৈকতে দেখা পাওয়া এই বিরল প্রাণীর ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে সম্ভাব্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই এটিকে প্রকৃতির এক বিরল ও বিস্ময়কর দৃশ্য হিসেবে গ্রহণ করছেন।

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি