ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২, মার্চ ২০২৬ ৪:১২:১২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ঈদ বাজারে তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে থ্রি-পিস

অনু সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:০২ পিএম, ১১ মার্চ ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে মেয়েদের নানা ধরনের ট্রেন্ডি পোশাকের সমাহার দেখা যাচ্ছে। সারারা, ঘারারা, বার্বি গাউন, গাউন ও লেহেঙ্গাসহ আধুনিক ডিজাইনের পোশাক বাজারে এলেও তরুণীদের পছন্দের তালিকায় এখনো শীর্ষে রয়েছে থ্রি-পিস।

রাজধানীর তালতলা সুপার মার্কেট, রামপুরা মার্কেট ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ঈদের কেনাকাটায় মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় বেশি। তাদের বড় একটি অংশই তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং ব্যবহার উপযোগী হওয়ায় থ্রি-পিসের দিকেই ঝুঁকছেন।

তালতলা সুপার মার্কেটের ‘রাজধানী বস্ত্র সম্ভার’ থেকে তিনটি থ্রি-পিস কিনেছেন ফরিহা সুমা। তিনি বলেন, “অন্য পোশাক অনেক সময় শুধু ঈদের দিনেই পরা যায়। কিন্তু থ্রি-পিস সব সময় ব্যবহার করা যায়। তাই এটিই কিনেছি।”

আরেক ক্রেতা সেলিনা রহমান বলেন, “মধ্যবিত্তদের সব সময় হিসাব করে চলতে হয়। একদিনের জন্য খুব দামি পোশাক কেনা আমাদের জন্য বিলাসিতা। তাই থ্রি-পিসই বেশি সুবিধাজনক।”

ব্যবসায়ীরাও বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই মধ্যবিত্ত তরুণীদের কাছে থ্রি-পিসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে পাকিস্তানি লন কাপড়ের ওপর হাতের কাজ করা থ্রি-পিস এ বছর বেশি বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানী বস্ত্র সম্ভারের স্বত্বাধিকারী ওয়াসিম হোসেন বলেন, “এবার লনের মধ্যে হাতের কাজ ও জরির ডিজাইনের থ্রি-পিস বেশি চলছে। দামও তুলনামূলক নাগালের মধ্যে।” তিনি জানান, এসব থ্রি-পিসের দাম সাধারণত এক হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে চার হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার থ্রি-পিসের চাহিদাই বেশি।

বিক্রেতারা জানান, শুধু উৎসব নয়, গরম আবহাওয়া ও আরামদায়ক ব্যবহার বিবেচনায় নিয়েই অনেক তরুণী পোশাক বেছে নিচ্ছেন। তাই লনের পাশাপাশি কটন, টিস্যু, মসলিন, জর্জেট, সিল্ক ও চায়না কটনের থ্রি-পিসও ভালো বিক্রি হচ্ছে।

তবে থ্রি-পিসের পাশাপাশি সারারা, ঘারারা, বার্বি গাউন ও লেহেঙ্গার বিক্রিও একেবারে কম নয়। এসব পোশাকের দাম সাধারণত দেড় হাজার থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে।

বাড্ডা হোসেন মার্কেট থেকে মেয়ের জন্য একটি গাউন কিনেছেন সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, “মেয়ের খুব শখ ছিল। তাই একটু বেশি দাম হলেও কিনে দিলাম।”

এদিকে থ্রি-পিসের পাশাপাশি এবারের ঈদে ওয়ান-পিস ও টু-পিসের বিক্রিও ভালো বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেশি বুটিক হাউসে তৈরি ওয়ান-পিসের সঙ্গে আলাদা করে পাজামা ও ওড়না মিলিয়ে নিচ্ছেন অনেক তরুণী।

কলেজশিক্ষার্থী অপরা বলেন, “আমি একটি ওয়ান-পিস কিনেছি। এখন তার সঙ্গে মিলিয়ে পাজামা ও ওড়না নিচ্ছি। এতে খরচও তুলনামূলক কম হয়।”

ব্যবসায়ীরা জানান, পাকিস্তানি পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় ও চীনা থ্রি-পিসও বাজারে রয়েছে এবং সেগুলোও ভালো বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিজাইন ও আরামদায়ক ব্যবহারের কারণে পাকিস্তানি লনের থ্রি-পিসের প্রতি তরুণীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।