দেশীয় বুটিক হাউজ বিশ্বরঙ: ঈদ কেনাকাটায় জমজমাট
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৫:৫৫ পিএম, ১২ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। ঐতিহ্যবাহী বুটিক হাউজ বিশ্বরঙ–এর শোরুমগুলোতেও দেখা যাচ্ছে ঈদের জমজমাট কেনাকাটা। দেশীয় নকশা, হাতের বুনন ও রঙের বৈচিত্র্যে তৈরি পোশাক কিনতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে বিশ্বরঙের শোরুমে সাজানো হয়েছে নারী, পুরুষ ও শিশুদের নানা ধরনের পোশাক। নারীদের জন্য রয়েছে থ্রি–পিস, শাড়ি, কুর্তি, ফিউশন পোশাক এবং বিভিন্ন হ্যান্ডপেইন্ট ও ব্লকপ্রিন্টের ড্রেস। পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি, ফতুয়া এবং কুর্তা। শিশুদের জন্যও রাখা হয়েছে রঙিন ও আরামদায়ক পোশাকের সংগ্রহ।
দেশীয় বুনন ও নকশার বৈচিত্র্য
বিশ্বরঙের পোশাকে মূলত দেশীয় কাপড় ও বুননের ব্যবহার করা হয়েছে। জামদানি, খাদি, কটন, সিল্ক এবং বিভিন্ন হ্যান্ডলুম কাপড়ে তৈরি পোশাকগুলোতে রয়েছে ব্লকপ্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিক ও হ্যান্ডপেইন্টের কাজ। অনেক পোশাকে বাংলার লোকজ মোটিফ, ফুল–লতা ও প্রকৃতিনির্ভর নকশা ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশ্বরঙের এক সেলসম্যান জানান, এবারের ঈদে পোশাকের ডিজাইনে রঙের বৈচিত্র্য বেশি রাখা হয়েছে। লাল, নীল, হলুদ, সবুজসহ উজ্জ্বল রঙের পাশাপাশি প্যাস্টেল রঙের পোশাকও বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
দাম কেমন
শোরুম সূত্রে জানা যায়, নারীদের থ্রি–পিস ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। শাড়ির দাম শুরু হয়েছে প্রায় ৩ হাজার টাকা থেকে, যা নকশা ও কাপড়ের ওপর ভিত্তি করে ১০ হাজার টাকার বেশি পর্যন্ত রয়েছে।
পুরুষদের পাঞ্জাবির দাম ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। ফতুয়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শিশুদের পোশাকের দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।
মালিকের বক্তব্য
বিশ্বরঙের প্রতিষ্ঠাতা ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, “আমরা সব সময় দেশীয় কাপড় ও কারুশিল্পকে গুরুত্ব দিই। ঈদকে সামনে রেখে এবার নতুন অনেক ডিজাইন এনেছি। চেষ্টা করেছি পোশাকে বাঙালিয়ানা ও আধুনিকতার সমন্বয় রাখতে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্রেতাদের সাড়া বেশ ভালো। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম দেশীয় ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা আমাদের জন্য উৎসাহের।”
ক্রেতাদের আগ্রহ
ঈদের কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা তানিয়া রহমান বলেন, “বিশ্বরঙের পোশাকে আলাদা একটা দেশীয় ছোঁয়া আছে। ডিজাইনগুলোও খুব সুন্দর। তাই প্রায় প্রতি ঈদেই এখান থেকে কিছু না কিছু কিনি।”
আরেক ক্রেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, “এখানে পাঞ্জাবির কাপড় ও নকশা ভালো। দাম কিছুটা বেশি হলেও মান ভালো হওয়ায় কিনতে আগ্রহ হয়।”
বিক্রেতাদের ব্যস্ত সময়
বিশ্বরঙের শোরুমের এক সেলসম্যান রাশেদ জানান, “রমজানের শুরুতে ভিড় কম থাকলেও এখন প্রতিদিনই ক্রেতা বাড়ছে। বিকেলের পর থেকে শোরুমে অনেক ভিড় হয়। ঈদ যত কাছে আসছে, কেনাকাটাও তত বাড়ছে।”
দেশীয় ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহ
ফ্যাশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশীয় বুটিক হাউজের পোশাকের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। উৎসবের সময় অনেকেই দেশীয় কাপড় ও নকশার পোশাক পরতে পছন্দ করেন। এতে একদিকে যেমন ঐতিহ্য ধরে রাখা যায়, অন্যদিকে দেশীয় কারুশিল্পও টিকে থাকে।
ঈদকে সামনে রেখে তাই রাজধানীর শোরুমগুলোতে এখন জমজমাট কেনাকাটা। দেশীয় নকশা, বুনন ও রঙের বৈচিত্র্যে তৈরি পোশাকে সেজে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্রেতারা, আর সেই ব্যস্ততার কেন্দ্রগুলোর একটি হয়ে উঠেছে বিশ্বরঙের শোরুম।ৃ
