ঢাকা, শুক্রবার ১৩, মার্চ ২০২৬ ৪:০১:৩১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রাজধানীতে নারীদের পরিবহন সংকট: দ্রুত আধুনিক বাস চালুর ঘোষণা

রাতুল মাঝি

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০২ এএম, ১৩ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার

রাজধানীতে নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের সংকট: ছয় মাসের মধ্যে আধুনিক বাস চালুর ঘোষণা

রাজধানীতে নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের সংকট: ছয় মাসের মধ্যে আধুনিক বাস চালুর ঘোষণা

রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন লাখো নারী শিক্ষা, চাকরি ও নানা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হন। কিন্তু তাদের যাতায়াতের জন্য আলাদা বা নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার অভাব বহুদিনের সমস্যা। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড়, পর্যাপ্ত আসনের অভাব এবং প্রায়ই হয়রানির অভিযোগ—সব মিলিয়ে নারীদের প্রতিদিনের যাত্রা হয়ে ওঠে দুর্ভোগের।

এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীতে নারীদের জন্য অত্যাধুনিক বাস চালু করা হবে। সরকারের এই ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে নারীদের পরিবহন নিরাপত্তার বিষয়টি।

প্রতিদিনের যাত্রায় ভোগান্তি: ঢাকায় কর্মজীবী নারীদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন বাসে করে যাতায়াত করেন। অফিস ছুটির সময় বাসে ওঠার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ভিড়ের কারণে বাসে উঠতেই পারেন না। আবার বাসে উঠলেও পর্যাপ্ত আসন না থাকায় দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নুসরাত জাহান বলেন, “অফিস শেষে বাসে ওঠাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। অনেক সময় ভিড়ের মধ্যে খুব অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। আলাদা নিরাপদ বাস থাকলে নারীদের জন্য খুবই ভালো হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, “অনেক সময় সন্ধ্যার পর বাসে ওঠা নিয়ে ভয় কাজ করে। যদি নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু হয়, তাহলে নিশ্চিন্তে যাতায়াত করা যাবে।”

পরিসংখ্যান যা বলছে, পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ মানুষ গণপরিবহনে যাতায়াত করেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ নারী।

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ঢাকায় গণপরিবহনে যাতায়াত করা নারীদের বড় একটি অংশ কোনো না কোনো সময় হয়রানির অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। আবার অনেক নারী নিরাপত্তার অভাবের কারণে বাসে উঠতেই অনীহা প্রকাশ করেন।

পরিবহন গবেষকরা বলছেন, নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা না থাকলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণেও প্রভাব পড়ে।

আগের উদ্যোগ কেন সফল হয়নি: নারীদের জন্য আলাদা পরিবহন চালুর উদ্যোগ এর আগেও নেওয়া হয়েছিল। কয়েক বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু বাস চালু করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত বাসের অভাব, রুট পরিকল্পনার দুর্বলতা এবং নিয়মিত তদারকির অভাবে আগের উদ্যোগগুলো সফল হয়নি।

ঢাকার এক বাস কোম্পানির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রফিক বলেন, “নারীদের জন্য আলাদা বাস চালু করতে হলে ভালো পরিকল্পনা দরকার। বাসের সংখ্যা, নির্দিষ্ট রুট এবং সময়সূচি ঠিকভাবে না হলে এটি টিকবে না।”

নতুন উদ্যোগের ঘোষণা: সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, রাজধানীতে নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ছয় মাসের মধ্যে অত্যাধুনিক বাস চালু করা হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এসব বাসে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা, নির্দিষ্ট আসন ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত কর্মী থাকবেন। এছাড়া নির্দিষ্ট রুটে নিয়মিত সময়সূচি মেনে বাস চলাচলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সরকারের এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

বিশেষজ্ঞদের মত: পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. কামরুল হাসান বলেন, “নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন অত্যন্ত জরুরি। শুধু আলাদা বাস চালু করলেই হবে না, এর ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি সফল করতে হলে পর্যাপ্ত বাস, নির্দিষ্ট রুট এবং কার্যকর তদারকি দরকার।”

আশায় কর্মজীবী নারীরা: সরকারের ঘোষণার পর কর্মজীবী নারীদের মধ্যে আশাবাদ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যাতায়াত অনেক সহজ ও নিরাপদ হবে।

এক ব্যাংক কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম বলেন, “আমরা প্রতিদিন অনেক ঝুঁকি নিয়ে বাসে উঠি। যদি আধুনিক ও নিরাপদ বাস চালু হয়, তাহলে নারীদের জন্য এটি বড় স্বস্তি হবে।”

সমাধানের অপেক্ষা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ঘোষণা নয়—কার্যকর বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে সরকার যদি পরিকল্পনাটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে রাজধানীর লাখো নারীর দৈনন্দিন যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে।

এখন সবার চোখ সরকারের সেই ঘোষণার দিকে—ছয় মাসের মধ্যে নারীদের জন্য আধুনিক বাস চালু হলে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হতে পারে।