শুক্রবারে কাঁচাবাজারে ভিড়, পণ্যের দামে মিশ্র চিত্র
জোসেফ সরকার
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:১৪ এএম, ১৩ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
রমজানের মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবারের জন্য সপ্তাহের বাজার করতে অনেকেই এদিন বাজারে আসেন। তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছু সবজির দাম সহনীয় থাকলেও মাছ, মাংস ও কিছু নিত্যপণ্যের দাম এখনও বেশ চড়া। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর নিউমার্কেট, কারওয়ান বাজার, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের শুরুতে বাড়তি দামের চাপ থাকলেও বর্তমানে বেশিরভাগ সবজির দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে কিছু পণ্যের দামে এখনও ওঠানামা রয়েছে।
সবজির বাজার: বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫–৩০ টাকায়। টমেটো ৫০–৬০ টাকা, শসা ৬০–৭০ টাকা এবং করলা ৭০–৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম কিছুটা বেশি—প্রতি কেজি ৮০–৯০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০–১৪০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া ফুলকপি প্রতিটি ৩০–৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০–৫০ টাকা, লাউ ৫০–৬০ টাকা এবং কাঁচা পেঁপে ৪০–৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০–৬০ টাকা কেজিতে এবং গাজর ৬০–৭০ টাকা কেজি দরে।
পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়ে কেজিপ্রতি ১১০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০–২০০ টাকা এবং আদা ২৫০–২৮০ টাকা কেজি দরে।
মাছের বাজারে দাম চড়া: মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। চাষের পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ২০০–২২০ টাকা কেজি দরে, তেলাপিয়া ২২০–২৫০ টাকা, রুই ৪৫০–৫০০ টাকা এবং কাতলা ৫০০–৫৫০ টাকা কেজি দরে।
দেশি মাছের দাম আরও বেশি। শিং মাছ ৬০০–৭০০ টাকা, টেংরা ৭০০–৮০০ টাকা এবং কই মাছ ৫০০–৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংস ও ডিম: মাংসের বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০–৭৮০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংস ১২০০–১৩০০ টাকা কেজি। মুরগির বাজারে ব্রয়লার মুরগি ২২০–২৪০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০–৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ডিমের বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২৫–১৩৫ টাকায়।
ক্রেতাদের অভিযোগ: মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট এলাকায় বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সোহেল বলেন, “সবজির দাম কিছুটা সহনীয় থাকলেও মাছ ও মাংস কিনতে গেলে বাজেট নষ্ট হয়ে যায়। রোজায় খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে।”
আরেক ক্রেতা নাজমা আক্তার বলেন, “পরিবারে সদস্য বেশি হওয়ায় সপ্তাহে একদিন বড় বাজার করি। কিন্তু দাম বেশি থাকায় সবকিছু কেনা সম্ভব হয় না। কিছু জিনিস বাদ দিতে হচ্ছে।”
বিক্রেতাদের বক্তব্য: কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, “রমজানের শুরুতে দাম একটু বেশি ছিল। এখন গ্রাম থেকে সবজি আসায় কিছুটা কমেছে। তবে কাঁচামরিচ ও কিছু সবজির দাম এখনও বেশি।”
মাছ বিক্রেতা হাবিবুল্লাহ বলেন, “রোজায় মাছের চাহিদা বাড়ে। পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়েছে। এজন্য মাছের দাম একটু বেশি।”
সরবরাহ থাকলে দাম স্থিতিশীল থাকার আশা: বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানে চাহিদা কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। সরবরাহ ঠিক থাকলে সবজির দাম বড় ধরনের বাড়ার আশঙ্কা নেই। তবে মাছ ও মাংসের বাজারে স্বস্তি পেতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
রমজানের মধ্যে শুক্রবার হওয়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়লেও দামের এই মিশ্র চিত্রে অনেক ক্রেতাই হিসেব করে বাজার করছেন।
